Logo

মধ্যরাতে দুই ভাইয়ের ছয় গরু চুরি, নিঃস্ব পরিবারে ভেঙে গেল স্বপ্ন

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ
৯ জুন, ২০২৬, ১৮:২৩
মধ্যরাতে দুই ভাইয়ের ছয় গরু চুরি, নিঃস্ব পরিবারে ভেঙে গেল স্বপ্ন
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরহোসেনপুর গ্রামে মধ্যরাতে পাশাপাশি দুটি গোয়ালঘর থেকে ছয়টি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় প্রায় ছয় লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন দুই সহোদর ভাই আব্দুল খালেক (৫৫) ও আব্দুল মালেক (৪৮)। গরুগুলোই ছিল তাদের পরিবারের প্রধান সম্পদ ও ভবিষ্যতের স্বপ্নের অবলম্বন।

সোমবার (৮ জুন) গভীর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরহোসেনপুর গ্রামে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রাত সাড়ে ১২টার দিকে গরুগুলোকে খাবার দিয়ে ঘুমাতে যান পরিবারের সদস্যরা। ফজরের আজানের পর আব্দুল খালেক গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন দরজার তালা খোলা। ভেতরে ঢুকে তিনটি গরু না পেয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা এসে দেখতে পান, তার গোয়ালঘরের সব গরুই চুরি হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

একই সময়ে পাশের গোয়ালঘরে গিয়ে আব্দুল মালেকও দেখতে পান তার তিনটি গরু উধাও। ধারণা করা হচ্ছে, সংঘবদ্ধ চোরচক্র পরিকল্পিতভাবে রাতের অন্ধকারে গোয়ালঘরের তালা খুলে গরুগুলো নিয়ে যায়।

চুরি হওয়া গরুর মধ্যে আব্দুল খালেকের দুটি ষাঁড় ও একটি গাভি ছিল, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। অন্যদিকে আব্দুল মালেকের একটি গাভি ও দুটি বকনা গরুর মূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। চুরি হওয়া গাভিটি কয়েক দিনের মধ্যেই বাচ্চা প্রসব করার কথা ছিল।

বিজ্ঞাপন

গরু হারিয়ে আবেগাপ্লুত আব্দুল মালেক বলেন, আমার ঘরটি অনেক পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। গাভিটি বাচ্চা দেওয়ার পর বিক্রি করে নতুন ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। গরু চুরি হয়ে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন ভেঙে গেছে।

অপর ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক বলেন, আমার ওপর ঋণের চাপ রয়েছে। একটি ষাঁড় বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের আশা ছিল। এখন সবকিছু হারিয়ে আমি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।

বিজ্ঞাপন

মালেকের স্ত্রী মাজেদা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে গরুগুলোর দেখাশোনা করতেন। গরু চুরির পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুদ মিয়া বলেন, এটি পরিকল্পিত চুরি বলে মনে হচ্ছে। একটি গরুর সঙ্গে কৃষকের জীবিকা, স্বপ্ন ও পরিবারের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকে। দ্রুত গরুগুলো উদ্ধার এবং চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। চোরচক্রকে শনাক্ত এবং চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা রাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং গরু চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD