Logo

জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের, ‘অবাক’ জেলেনস্কি, নীরব রাশিয়া

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩:৫১
জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের, ‘অবাক’ জেলেনস্কি, নীরব রাশিয়া
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া এবং ইউক্রেন ভবিষ্যতে আর কখনও পরস্পরের জ্বালানি খাত লক্ষ্য করে হামলা করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, উভয় পক্ষই এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এ ধরনের চুক্তির বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত কিছু জানেন না।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১১ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে এ চুক্তি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দুই দেশকে এটি ভঙ্গ না করার আহ্বান জানান।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানতে পারেননি তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির পক্ষে। তবে রাশিয়ারও যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে কিয়েভ।

জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের

রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। রোববারের বার্তায় তিনি বলেন, ইউক্রেনের অবশ্যই রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা বন্ধ করা উচিত।

বিজ্ঞাপন

এর পাশাপাশি ইউক্রেনে নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর অভিযোগ, মস্কোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করেছেন জেলেনস্কি।

সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে শনিবারও জেলেনস্কিকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইউক্রেনের জনগণকে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে নেতা পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।

ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন তথ্য জানিয়েছে হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, কিয়েভ হামলা বন্ধ না করলে ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিল ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘প্রাইওরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ারমেন্টস লিস্ট’ বা অগ্রাধিকারভিত্তিক ইউক্রেনীয় চাহিদার তালিকা ব্যবস্থাও রয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের হুমকির বিষয়ে এর আগে ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন কমাতে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন জেলেনস্কি। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

বিজ্ঞাপন

রাশিয়ার ডিজেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতির মধ্যে সম্প্রতি রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকে ছয় মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ৯ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে, ইরানকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের পদক্ষেপের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েও ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সে সময় রাশিয়া কিংবা ইউক্রেন—কোনো পক্ষই এমন চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনের জন্য ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চান জেলেনস্কি

ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলেনস্কির মেয়াদ ২০২৪ সালে শেষ হয়েছে। তবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ক্ষমতায় রয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় রোববার ইউক্রেনে নতুন নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান ট্রাম্প।

ট্রাম্পের আহ্বানের কয়েক ঘণ্টা পর টেলিগ্রামে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। সেখানে তিনি বলেন, ইউক্রেনের নেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দেশটির জনগণের ওপর নির্ভর করে। তবে নির্বাচন আয়োজনের আগে চলমান সংঘাতের অবসান হওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

ইউক্রেনের আইনে সামরিক শাসন চলাকালে নির্বাচন আয়োজন নিষিদ্ধ। জেলেনস্কি অবশ্য নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে বলেছেন, এ জন্য রাশিয়াকে ৬০ দিনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে।

ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, “দয়া করে পুতিনকে বলুন—আমাদের দুই মাস বা ৬০ দিনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি দিন; ৬০ দিন সময় পেলে আমরা নির্বাচনের আয়োজন করব।”

ট্রাম্পের জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এবং জেলেনস্কির নির্বাচনের শর্তের মধ্যে এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না আসায় প্রস্তাবিত চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD