Logo

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ঘুম উড়ে গেছে: রাহুল গান্ধী

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:০২
সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ঘুম উড়ে গেছে: রাহুল গান্ধী
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন, রাতে তাঁর ঘুমও হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার (১২ অক্টোবর) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করে রাজসাক্ষী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমি জানি, উনিও এই সংবাদ সম্মেলন দেখছেন। তার উচিত এখন রাজসাক্ষী হয়ে যাওয়া।’

প্রধান বিচারপতি বিরোধী নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি—এমন আলোচনা প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, বিষয়টি আসল নয়। প্রধান বিচারপতি তাঁদের পিটিশন বা আবেদন জমা দেওয়ার পথ দেখিয়েছেন। সেই অনুযায়ী সোমবার বিকেলেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

দলমত নির্বিশেষে সবাইকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, এটি সংবিধান রক্ষার লড়াই, দেশের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষার লড়াই। একই সঙ্গে তিনি একে সবার অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম হিসেবে উল্লেখ করেন। যে যেভাবে পারেন, এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

জ্ঞানেশ কুমারকে রাজসাক্ষী হওয়ার প্রস্তাব আগেও দিয়েছিলেন রাহুল। সোমবারও তিনি নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজসাক্ষী হয়ে যাওয়াই একমাত্র উপায়। তাঁর অভিযোগ, জ্ঞানেশ অন্যায় করলেও তিনি মূল অপরাধী নন; অন্য কেউ এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মূল অপরাধী হিসেবে রাহুল নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, অজিত দোভাল ও গৌতম আদানির নাম করেন। তাদের চাপেই সিইসি এসব কাজ করছেন বলে তার অভিযোগ। তিনি বলেন, এটা এক দিনের লড়াই নয়। দিল্লিকে দুর্গ বানিয়ে ৩০-৪০ হাজার পুলিশ রাস্তায় নামানো হয়েছে। অনেক পুলিশই ক্লান্ত। তার দাবি, পুলিশের একটা বড় অংশ চান আন্দোলন চলুক।

রাহুল আরও বলেন, দুই শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ইডি, সিবিআই থেকে শুরু করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও আছেন। সরকারের অনেক খবর তারাই দিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে রাহুল বলেন, প্রথমে নির্বাচন কমিশনে যেতে চেয়েছিলেন, দেওয়া হয়নি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরদিন যন্তর মন্তরে যেতে চেয়েছিলেন, সেটাও হয়নি। তারপর রাজঘাটে প্রার্থনা করেছেন। এবার সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন। পুলিশের অত্যাচার ও আরএসএসের কর্মীদের রাস্তায় নামানোর ভিডিও দেখিয়ে তিনি বলেন, লড়াই কঠিন। ধৈর্য ও অধ্যবসায় দরকার।

রাহুল স্পষ্ট করে বলেন, যত দিন জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দেবেন, তত দিন আমরা থামব না। বিজেপির ভেতরে যারা এখন হিমশিম খাচ্ছেন, তাদেরও আহ্বান জানান সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষায় এগিয়ে আসতে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিস্থিতি দেখে কর্মসূচি ঠিক করা হচ্ছে। আগে থেকে কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। আকাশবাণী ভবনেও তেমন কোনো আগাম সিদ্ধান্ত নিয়ে যাননি। পরিস্থিতি যেভাবে এগোবে, সেভাবেই অগ্রসর হব আমরা।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD