দিল্লিতে এক মাস মোতায়েন থাকবে ২০ হাজার আধাসামরিক সদস্য

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যকে অন্তত এক মাস দিল্লিতে মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
বিজ্ঞাপন
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভের পাশাপাশি সামনে উৎসবের মৌসুমের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও জনসমাগমস্থলে মানুষের উপস্থিতি বাড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাই নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে, দিল্লিতে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য নতুন করে তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি ময়দান। এর আগে শহরের উচ্চনিরাপত্তাবেষ্টিত কেন্দ্রীয় এলাকায় অবস্থিত যন্তর মন্তর ছিল বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে সেখানে বিক্ষোভ আয়োজনের স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন করে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত নিরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সুপ্রিম কোর্টের দিকে ইন্ডিয়া জোটের পদযাত্রা
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আবেদন জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সোমবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের দিকে পদযাত্রা করেন বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার নেতারা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির সীমান্ত এলাকা, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া জমায়েত প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর সীমান্তবর্তী এলাকায় যানবাহনে তল্লাশি বাড়িয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে হোটেল, অতিথিশালা, লজ ও ধর্মশালায় অবস্থানকারীদের পরিচয় যাচাইয়ের কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
২০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে নয়াদিল্লি জেলা
আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি দিল্লি পুলিশের হাজার হাজার সদস্যকেও নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে নয়াদিল্লি জেলাকে ২০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিটি জোনের পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম কমিশনার, উপকমিশনার ও অতিরিক্ত উপকমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা।
রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা
সোমবারের (১২ অক্টোবর) বিক্ষোভে আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কর্মসূচির কৌশলে পরিবর্তন এনেছে ইন্ডিয়া জোট। প্রতিবাদকে শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে উপস্থাপন না করে ‘গণতান্ত্রিক বিক্ষোভ’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রাথমিকভাবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনকেও এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভের স্থান পরিবর্তন, রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার এবং বিপুলসংখ্যক আধাসামরিক সদস্য মোতায়েনের মধ্য দিয়ে দিল্লিতে আগামী কয়েক সপ্তাহ জনসমাগম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: এনডিটিভি








