Logo

জামায়াতি শিক্ষকদের মতো গুপ্ত না থেকে রাজপথে লড়াই করেছেন চুয়েট ভিসি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:০৫
জামায়াতি শিক্ষকদের মতো গুপ্ত না থেকে রাজপথে লড়াই করেছেন চুয়েট ভিসি
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতি শিক্ষকদের মতো গুপ্ত না থেকে রাজপথে লড়াই করেছেন চুয়েট ভিসি।’

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে রাজপথে নেমেছিলেন চুয়েটের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীও।

রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রদের পক্ষে রাজপথে নেমেছিলেন চুয়েটের (CUET) বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনি চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীও বটে। অথচ তাকে বলা হচ্ছে যে, কোনো বহিরাগতকে আমরা ভিসি হিসেবে মানবো না! তিনি কুয়েটে অধ্যাপনা করে আবার নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে এসেছেন, এটা তো তাদের জন্যই গর্বের বিষয় হওয়ার কথা। কিন্তু তার একটাই অপরাধ যে, তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াতি শিক্ষকদের মতো গুপ্ত না থেকে রাজপথে ছাত্রদের পক্ষে লড়াই করেছেন।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, ‘আর ঠিক এই অপরাধে শিবিরের গুপ্ত শাখার সদস্যরা সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে উস্কানি দিয়ে একজন শিক্ষিক ও ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীকে বহিরাগত তকমা দিয়ে যে বেয়াদবি করেছে, এটা অসহনীয়। যারা আওয়ামী লীগের সময় ছাত্রলীগ হয়ে বেঁচে ছিলো, তাদের বেয়াদবিকে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে অপদস্ত করে শিবিরের গুপ্ত শাখা তার জাত চিনিয়েছে যে, এরা কতো ভয়ংকর হতে পারে। সুতরাং জাতীয়তাবাদী ও বাংলাদেশপন্থী শক্তিকে অবশ্যই শক্তভাবে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের পাশে দাঁড়াতে হবে।’

এদিকে, টানা ৩০ ঘণ্টা নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয় উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালে সাংবাদিকদের উপাচার্য জানান, দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় তাঁদের ১১ জনের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। এ ছাড়া দুজন অ্যালামনাই সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সরকারি চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের পরামর্শে উপাচার্যকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম আরও জানান, রাষ্ট্র তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালন করতেই তিনি চট্টগ্রামে এসেছেন। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে কিংবা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে তিনি দায়িত্ব নিতে আসেননি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে। ওই দিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম কয়েকজন বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে কার্যালয় ছেড়ে যাওয়ার সময় বেঁধে দেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপাচার্য কার্যালয় না ছাড়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকে আবার তালা দেওয়া হয়। এতে উপাচার্যসহ সেখানে অবস্থানরত অন্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

বিজ্ঞাপন

টানা ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ক্যাম্পাসে গিয়ে উপাচার্যকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশি পাহারায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পরিস্থিতি ও উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD