Logo

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি, আয়াসসহ চারজনের রিমান্ড

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:৩১
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি, আয়াসসহ চারজনের রিমান্ড
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো রং লাগানোর ঘটনায় গ্রেফতার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তাঁদের মধ্যে মো. সাকিবুস হাসান ও আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের তিন দিন করে এবং মো. সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। পরে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল গাফফার হিমেল চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত, উসকানিদাতা ও মদতদাতাদের খুঁজে বের করা, পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় জানা এবং অর্থায়নের উৎস শনাক্ত করাসহ পাঁচটি কারণ দেখিয়ে আবেদনটি করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৯ অক্টোবর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতিগুলো চুনকাম করে মুছে ফেলার ঘোষণা দেন ‘সংলাপ ফোরাম’-এর সভাপতি আল নূর মোহাম্মদ আয়াস। এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন শিল্পকলা একাডেমির ফটকের বিপরীত পাশের দেয়ালের কাছে চারজন একত্র হন। এ সময় আয়াসসহ অন্যরা বিভিন্ন বক্তব্য দেন এবং মারজিয়া খন্দকার রিমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো রং লাগান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে আরও দাবি করা হয়, আয়াস পাকিস্তানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর কবর ও নামফলক নিয়ে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে, রিমি ভারতীয় আগ্রাসন এবং রবীন্দ্রনাথের জমিদারি নিয়ে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গ্রাফিতিতে কালো রং লাগান।

মামলায় গ্রেফতার অপর দুই আসামি হলেন মো. সাকিবুস হাসান (১৯) ও মো. সুজন মিয়া (১৮)। মামলার নথিতে তাঁদের পারিবারিক পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে দাবি করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন না। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি, উসকানিদাতা, পরিকল্পনাকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও কয়েকজন পালিয়ে যান বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রও আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতে আদালত চারজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD