Logo

শনাক্ত করা সম্ভব নয় এমন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬:৪৯
শনাক্ত করা সম্ভব নয় এমন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়া এমন একটি হাইপারসনিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে এবং শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন করে তুলতে পারে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামরিক বিশ্লেষকরা এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত রোববার উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূল থেকে দুটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এ উৎক্ষেপণের নিন্দা জানিয়ে এটিকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবে পিয়ংইয়ং পরীক্ষিত অস্ত্রটির নির্দিষ্ট নাম প্রকাশ করেনি। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যুরো শুধু জানিয়েছে, অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে নতুন ধরনের একটি অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, পরীক্ষিত অস্ত্রটি উত্তর কোরিয়ার হোয়াসংফো-১১এমএ-১ হাইপারসনিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ হতে পারে। এ অস্ত্রের সম্ভাব্য পাল্লা ৪৫০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষক ইয়াং মু-জিন।

বিজ্ঞাপন

গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে নেতা কিম জং উন ও তার মেয়ে জু আয়ে একটি স্ক্রিনে ক্ষেপণাস্ত্রের উড্ডয়নসংক্রান্ত তথ্য দেখছেন। স্ক্রিনে ‘হোয়াসংফো-১১এমএ-১ ফ্লাইট ট্র্যাজেক্টরি’ লেখা দেখা যায়।

এএফপিকে কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর মিলিটারি অ্যাফেয়ার্সের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং সুং-পিও বলেন, একটি সফল পরীক্ষা দিয়েই অস্ত্রটির পূর্ণ সক্ষমতা প্রমাণ করা যায় না। তবে এটি কার্যকরভাবে মোতায়েন করা হলে প্রতিরোধ করা কঠিন হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তার মতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারলে প্রচলিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় সেটিকে শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন হবে, বিশেষ করে হাইপারসনিক গতিতে চলার সময়।

রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ

উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এএফপির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পিয়ংইয়ং ও মস্কোর সামরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সেনা পাঠিয়েছে এবং এর বিনিময়ে অর্থনৈতিক সুবিধা ও সামরিক প্রযুক্তি পাওয়ার কথা বিশ্লেষকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

উত্তর কোরিয়ার গবেষক আন চান-ইল এএফপিকে বলেন, পিয়ংইয়ং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে দেখাতে পারে। তবে তার মতে, দেশটি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে এ ধরনের অস্ত্র উৎক্ষেপণ করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

তিনি আরও ধারণা করেন, সাম্প্রতিক পরীক্ষাগুলোর একটি উদ্দেশ্য রাশিয়ার যুদ্ধকালীন চাহিদার জন্য উত্তর কোরিয়ায় তৈরি অস্ত্র পরীক্ষা করাও হতে পারে। এটি অবশ্য তার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ, নিশ্চিত তথ্য নয়।

পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়েও অনড় পিয়ংইয়ং

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়া নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে। দেশটির নেতারা তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় বলে ঘোষণা করে আসছেন।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক মহড়ার সমালোচনা করে আরও কঠোর পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন অস্ত্রটির প্রকৃত সক্ষমতা নির্ধারণে আরও পরীক্ষা ও তথ্য প্রয়োজন। ফলে একটি পরীক্ষার ভিত্তিতে এর চূড়ান্ত কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনই সম্ভব নয়।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD