ভোট চুরি নিয়ে ফের সরব রাহুল, তুললেন রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ

ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বিজেপি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
রাহুল গান্ধী বলেন, “ভোট চুরি ভারতীয় জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত। বিজেপি, আরএসএস ও নির্বাচন কমিশন এ কাজে জড়িত থাকলে তা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল।”
তার এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ২৩ সেপ্টেম্বরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে দুই কমিশনার গত ১০ মাসে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন।
দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি নতুন ভোটার যুক্ত করা, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার তথ্য ব্যবস্থাপনায় আরও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।
নতুন ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম-৬-এ বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-সংক্রান্ত নতুন ঘোষণা যুক্ত করার বিষয়েও তারা আপত্তি জানান। তাদের মতে, আইনগতভাবে নির্ধারিত এই ফর্ম পরিবর্তন করতে সংশ্লিষ্ট বিধিতে সংশোধন প্রয়োজন ছিল। সান্ধু ও যোশি এ পরিবর্তনকে ‘অননুমোদিত’ ও ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অন্য একটি প্রতিবেদনে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ভোটার তথ্যের সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা আরও কেন্দ্রীয় হয়ে ওঠা নিয়েও দুই কমিশনার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা ভোটার ডেটাবেসে পরিবর্তনের অনুমোদন ও প্রবেশাধিকার নিয়ে স্বাধীন নিরীক্ষার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশন নিয়ে কংগ্রেসের অভিযোগ
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অভিযোগ আরও জোরালো করেছে কংগ্রেস। দলটির নেতারা কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ আপত্তি এবং রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরি’র রাজনৈতিক অভিযোগ—দুটি বিষয়কে এক করে দেখা যায় না। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে দুই কমিশনারের লিখিত আপত্তির তথ্য উঠে এলেও ভোট কারচুপির অভিযোগের বিষয়ে তা সরাসরি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
রাহুল গান্ধী অবশ্য এর আগেও ভোটার তালিকা, নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে আসছেন। চলতি সেপ্টেম্বরেও মহারাষ্ট্রের এসআইআর নিয়ে তিনি ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলেছিলেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ওই সময় ভোটার বাদ পড়ার সংখ্যাকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা না করার কথা জানিয়েছিল।
প্রিয়াঙ্কার উদ্বেগ
এদিকে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্য, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হলে গণতন্ত্রের ভিত্তি প্রশ্নের মুখে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের আপত্তি এবং ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাহুল গান্ধী এ ঘটনাকে তার দীর্ঘদিনের ‘ভোট চুরি’ অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করে কমিশন, বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন।








