Logo

অণুর আয়না-ছবি রহস্য সমাধান, রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:০৪
অণুর আয়না-ছবি রহস্য সমাধান, রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি রসায়নবিদ হেনরি কাগান এবং জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াই। জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত সংশ্লেষণে স্বয়ংক্রিয় অনুঘটন প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য তাদের এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ বছরের রসায়নে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

কিছু অণু অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো দুটি ভিন্ন রূপে থাকতে পারে। এই দুই রূপ একে অপরের আয়না-প্রতিচ্ছবি। তবে জীবদেহে থাকা প্রোটিনে সাধারণত এই দুই রূপের মাত্র একটিই পাওয়া যায়। অন্য রূপটি প্রকৃতিতে খুবই বিরল।

অণুর এই একক বা একই ধরনের গঠনকে রসায়নবিদরা ‘হোমোকাইরাল’ বলেন। গ্রিক শব্দ থেকে আসা এই ধারণাটি হাতের গঠনের সঙ্গে তুলনা করা হয়। যেমন ডান ও বাম হাত দেখতে একই রকম হলেও একে অপরের আয়না-প্রতিচ্ছবি।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন ধরে রসায়নবিদদের কাছে প্রশ্ন ছিল, জীবজগতে কীভাবে অণুর এমন হোমোকাইরাল গঠন তৈরি হলো। কারণ পরীক্ষাগারে এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া পরিচালনা করলে সাধারণত দুটি আয়না-রূপই প্রায় সমান পরিমাণে তৈরি হতো।

আরও পড়ুন

•

বিজ্ঞাপন

•

কিন্তু ওষুধের মতো জীবদেহের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করবে এমন অণু তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি আয়না-রূপ প্রয়োজন হতে পারে। অন্য রূপটি একই কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে। ফলে শুধু একটি নির্দিষ্ট আয়না-রূপ তৈরির সক্ষমতা অর্জন ছিল রসায়নবিদদের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য।

কাগানের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি

বিজ্ঞাপন

এই রহস্য সমাধানের পথে ১৯৮৬ সালে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আনেন হেনরি কাগান। তিনি রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতিপথ পরিবর্তনের একটি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এর ফলে একটি নির্দিষ্ট আয়না-রূপ তৈরির ওপর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।

এই আবিষ্কার অসমমিত রাসায়নিক সংশ্লেষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি তৈরি করলেও তখনও সম্পূর্ণভাবে শুধু একটি আয়না-রূপ তৈরির লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।

সোয়াইয়ের সাফল্য

বিজ্ঞাপন

এরপর ১৯৯৫ সালে কেনসো সোয়াই এ ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন। তিনি এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া নকশার কথা প্রকাশ করেন, যা সম্ভাব্যভাবে হোমোকাইরাল গঠন তৈরি করতে পারে।

২০০৩ সালে তিনি এ গবেষণায় বড় সাফল্য অর্জন করেন। এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া তিনি দেখান, যেখানে সম্ভাব্য দুই আয়না-রূপের মধ্যে কেবল একটিই তৈরি হয়। নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, জীব ছাড়া এর আগে কোনো রাসায়নিক ব্যবস্থায় এমন সাফল্য দেখা যায়নি।

কাগান ও সোয়াইয়ের গবেষণার মাধ্যমে রসায়নবিদদের এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, যা হোমোকাইরাল অণু তৈরিতে সহায়তা করে।

বিজ্ঞাপন

ওষুধ তৈরিতে গুরুত্ব

এই আবিষ্কারের ব্যবহার শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নয়। ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে অণুর নির্দিষ্ট গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই রাসায়নিক উপাদানের দুটি আয়না-রূপ মানবদেহে ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে।

তাই কাঙ্ক্ষিত আয়না-রূপ নির্ভুলভাবে তৈরির প্রযুক্তি ওষুধশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণেই কাগান ও সোয়াইয়ের গবেষণাকে রসায়নে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

গত বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন এবং ওমর এম ইয়াগি। ‘মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক’ উদ্ভাবনের জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এখন পর্যন্ত রসায়নে ১১৭ বার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ বিভাগে সবচেয়ে বেশি বয়সে নোবেলজয়ী ব্যক্তি জন বি. গুডএনাফ। ২০১৮ সালে ৯৭ বছর বয়সে তিনি এ পুরস্কার পান। অন্যদিকে ১৯৩৫ সালে ৩৫ বছর বয়সে নোবেল পান ফ্রেডেরিক জোলিয়ট। সব মিলিয়ে রসায়নে এখন পর্যন্ত ১৯৮ জন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে এ পুরস্কারের নামকরণ করা হয়। ডিনামাইট আবিষ্কারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নোবেল তার উইলে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শান্তি—এই পাঁচ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করার নির্দেশনা দিয়ে যান। পরে ১৯৬৯ সাল থেকে অর্থনীতিও নোবেল পুরস্কারের আওতায় যুক্ত হয়।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD