নিরাপত্তা শঙ্কায় বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে সৌদি যুবরাজ, বাড়ছে উদ্বেগ

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি, বিমানবন্দরে আক্রমণ এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে। নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় তাকে বাঙ্কার-সুবিধাসম্পন্ন এক সুরক্ষিত প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রক্ত দেওয়ার পর থেকে ৪১ বছর বয়সী যুবরাজকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, যুবরাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাকে বিভিন্ন সুরক্ষিত প্রাসাদে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এসব প্রাসাদে রয়েছে বাঙ্কার-সুবিধা ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। তার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন বিশেষভাবে নির্বাচিত একটি দল।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত এবং অন্তত ৩০০ জন আহত হয়েছেন। গত এক দশকে সৌদি আরবে এটিকে অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাঁচ দিনে চার দফা হামলার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রিয়াদ বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল হতে পারে। একই সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন হুথিদের এক মুখপাত্র।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, হামলার জবাব সমান কঠোরভাবে দেওয়া হবে। তবে হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে নতুন করে হামলা হলে তা মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত মাসে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে সৌদি কর্মকর্তারা জানান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত দীর্ঘদিনের। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চলতি বছরের জুলাইয়ে ভেঙে যায়। এরপর ইরান থেকে আসা একটি উড়োজাহাজ সানার বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করলে সৌদি বাহিনী হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে হুথিরা। এর পর থেকেই তারা আবার হামলা শুরু করে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট








