Logo

শূকরের মাংস খাওয়া কমাচ্ছে চীন, বিপাকে খামারিরা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:৫৪
শূকরের মাংস খাওয়া কমাচ্ছে চীন, বিপাকে খামারিরা
ছবি: সংগৃহীত

চীনে কয়েক দশক ধরে প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস শূকরের মাংসের চাহিদা কমছে। স্বাস্থ্যসচেতন শহুরে ক্রেতাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, মুরগির মাংসের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি এবং বাজারে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে চাপের মুখে পড়েছে দেশটির শূকর পালনশিল্প। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ছোট খামারিরা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে চীনা খাদ্যপণ্যের প্রভাব।

বিজ্ঞাপন

এরই একটি উদাহরণ হেবেই প্রদেশের ছোট খামারি হুয়াং ওয়েইইং। প্রায় ২০ বছর আগে নিজ গ্রামে শূকর পালন শুরু করেছিলেন তিনি। একসময় তার খামারে শূকরের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সংকটে এখন তার খামারে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ১০টি শূকর।

গত আগস্টে নিজের খামারে শেষ শূকরগুলোকে খাবার দিচ্ছিলেন ৫৭ বছর বয়সী হুয়াং। প্রায় ৭৫ হাজার ডলারের ঋণের বোঝা নিয়ে শরৎকালের মধ্যেই সেগুলো জবাই করে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

হুয়াং বলেন, দুই দশকের বেশি সময় ধরে শূকর পালন করলেও গত দুই বছরের মতো কঠিন সময় তিনি দেখেননি। তার মতে, শূকরের দাম এতটাই কমে গেছে যে মনে হচ্ছে শহরের মানুষ শূকরের মাংস খাওয়াই ছেড়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বদলে যাচ্ছে চীনাদের খাদ্যাভ্যাস

চীনের ঐতিহ্যবাহী খাবারে শূকরের চর্বিযুক্ত মাংকের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। তবে এখন বিশেষ করে শহুরে ক্রেতাদের একটি অংশ তুলনামূলক কম চর্বিযুক্ত খাবারের দিকে ঝুঁকছেন।

সরকারি তথ্য ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর মাথাপিছু শূকরের মাংস খাওয়ার পরিমাণ ১৩ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মাথাপিছু মুরগির মাংস খাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি।

বিজ্ঞাপন

উৎপাদন বাড়লেও চাহিদায় ভাটা

ভোক্তাদের খাদ্যাভ্যাস বদলালেও চীনে মাংস ও দুগ্ধপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ২০১৮ সালের আফ্রিকান সোয়াইন ফিভারের প্রাদুর্ভাব ও করোনা মহামারির পর শূকরের সংখ্যা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার বড় উৎপাদকদের ভর্তুকি দিয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতেও উৎসাহিত করেছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চীনের কৃষি উৎপাদকদের মোট খামার আয়ের প্রায় ১৩ শতাংশ এসেছে সরকারি ভর্তুকি থেকে। ২০০০-এর দশকের শুরুর তুলনায় এই হার প্রায় তিন গুণ।

বিজ্ঞাপন

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চীনে রেকর্ড ৫ কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন শূকরের মাংস উৎপাদিত হয়েছে। একই সময়ে হাঁস-মুরগির মাংসের উৎপাদন বেড়েছে ৭ শতাংশ। দুগ্ধপণ্য খাতেও ২০২৫ সালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই ছাড়িয়ে গেছে।

কিন্তু উৎপাদন বাড়লেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল থাকায় শূকরের মাংসের দাম চাপে পড়েছে। মুরগির মাংস ও দুগ্ধপণ্যের দামও কমেছে।

বিশ্ববাজারে বাড়ছে প্রতিযোগিতা

বিজ্ঞাপন

চীনে অতিরিক্ত উৎপাদন এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা উৎপাদকদের বিদেশে পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি করছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সস্তা খাদ্যপণ্যের সরবরাহ বাড়ায় অন্যান্য দেশের উৎপাদকদের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চীনের শূকর পালনশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই বাজারের ভারসাম্য নিশ্চিত হয় না। সরকারি সহায়তা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং ভোক্তাদের পরিবর্তিত রুচির মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলে ছোট খামারিদের ওপর সংকটের চাপ আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD