Logo

ইয়েমেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫০
ইয়েমেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষী এবং সেখানে কর্মরত বেসামরিক কর্মীরাও রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের একটি সূত্র তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের এই হামলায় পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার সময় সরকারের কয়েকজন সদস্য প্রাসাদের ভেতরে অবস্থান করছিলেন।

ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বৃহস্পতিবারের হামলাকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এডেন বিমানবন্দরে ইয়েমেনি সরকারকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার পুনরাবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফেসবুক পোস্টে কাসেম বুহাইবেহ বলেন, “সরকার জনগণের মাঝে তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে”।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি এবং সরকারের অন্যান্য সদস্যরা নিরাপদে রয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আল-মাশিক প্রাসাদের ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি প্রাসাদের আশপাশের বেসামরিক বাড়িঘরেও গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

হুথি নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাসিরাহ একটি সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, প্রাসাদটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি তারা।

বিজ্ঞাপন

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, এডেনে ‘সৌদি যুদ্ধ অভিযানের সদর দপ্তরকে’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে—এমন যেকোনো স্থান বা স্থাপনাকে তারা ‘হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করেন।

২০১৪ সালে ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে হুথি যোদ্ধাদের সংঘাত গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। এর পর ২০১৫ সালে রাজধানী সানা দখল করে হুথি বাহিনী। সে সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্দরাব্বুহ মনসুর হাদি। রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর তিনি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন।

একই বছর হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এই জোটে সৌদি আরবের পাশাপাশি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও যুক্ত ছিল। ২০২৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত জোট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।

বিজ্ঞাপন

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরুর পর ইয়েমেন কার্যত দুটি প্রধান নিয়ন্ত্রণ অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের এডেনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালনা করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। এডেনেই অবস্থিত আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ।

জুলাই মাসে হুথি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হওয়ার পর আল-মাশিক প্রাসাদে এটিই প্রথম হামলার ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD