বাসি ভাত দিয়ে বানিয়ে ফেলুন মজাদার পাকোড়া

প্রতিদিনের রান্নাঘরে প্রায়ই এমন হয় যে খাবার শেষে কিছু ভাত থেকে যায়। পরদিন সেই ভাত খেতে অনেকেরই অনীহা থাকে। ফলে অনেক সময় অবশিষ্ট ভাত নষ্ট হয়ে যায় কিংবা ফেলে দিতে হয়। তবে সামান্য কিছু উপকরণ যোগ করে সেই বাসি ভাত দিয়েই তৈরি করা যায় দারুণ স্বাদের একটি বিকেলের নাস্তা—পাকোড়া।
বিজ্ঞাপন
বাইরে থেকে মুচমুচে আর ভেতরে নরম এই পাকোড়া শিশু থেকে বয়স্ক—সবার কাছেই বেশ জনপ্রিয় হতে পারে। বিশেষ করে চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করলে এর স্বাদ আরও বেড়ে যায়। খুব কম সময়ে এবং সহজ উপকরণে তৈরি করা যায় বলে এটি ব্যস্ত গৃহিণীদের কাছেও হতে পারে একটি চমৎকার সমাধান।
চলুন জেনে নেওয়া যাক বাসি ভাতের সুস্বাদু পাকোড়া তৈরির সহজ পদ্ধতি।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
বিজ্ঞাপন
বাসি বা আগের দিনের ভাত – ২ কাপ, পেঁয়াজ কুচি – ১টি মাঝারি আকারের, কাঁচা মরিচ কুচি – স্বাদ অনুযায়ী, ডিম – ১টি, ধনিয়া পাতা কুচি – ২ টেবিল চামচ, বেসন – ২ টেবিল চামচ, লবণ – পরিমাণমতো, হলুদের গুঁড়া – সামান্য এবং ভাজার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল।
প্রস্তুত প্রণালি
বিজ্ঞাপন
প্রথমে একটি বড় পাত্রে ভাত নিয়ে হাত বা চামচের সাহায্যে কিছুটা চটকে নিন, যাতে মিশ্রণটি সহজে একসঙ্গে থাকে। এরপর ভাতের সঙ্গে ডিম এবং বেসন যোগ করে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি একসঙ্গে হয়ে এলে এতে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ, ধনিয়া পাতা, লবণ এবং অল্প পরিমাণ হলুদের গুঁড়া যোগ করুন।
সব উপকরণ ভালোভাবে মেখে এমন একটি মিশ্রণ তৈরি করুন, যা হাত দিয়ে ছোট ছোট পাকোড়ার আকারে তৈরি করা যায়।
ভাজার নিয়ম
বিজ্ঞাপন
চুলায় একটি কড়াই বসিয়ে তেল গরম করুন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, তেল যেন অতিরিক্ত গরম না হয়ে যায়। কারণ বেশি গরম তেলে পাকোড়া দিলে বাইরের অংশ দ্রুত পুড়ে যেতে পারে, অথচ ভেতরের অংশ ঠিকমতো সেদ্ধ হবে না।
তেল মাঝারি গরম হলে মিশ্রণ থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে পাকোড়ার আকারে তেলে ছাড়ুন। মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে ভাজুন, যাতে ভেতর-বাহির সমানভাবে সোনালি রং ধারণ করে।
আরও পড়ুন: যে কারণে ধনী ব্যক্তিকে বিয়ে করা লাভজনক
বিজ্ঞাপন
পাকোড়াগুলো সুন্দর বাদামি রং ধারণ করলে তুলে কিচেন টিস্যুর ওপর রাখুন, যাতে অতিরিক্ত তেল ঝরে যায়।
পরিবেশন
গরম গরম পাকোড়া টমেটো সস, চিলি সস কিংবা পুদিনার চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করতে পারেন। চাইলে বিকেলের চায়ের সঙ্গেও এটি দারুণ মানিয়ে যাবে।
বিজ্ঞাপন
বাড়তি কিছু টিপস
পাকোড়ার স্বাদ আরও বাড়াতে চাইলে মিশ্রণে সামান্য আদা কুচি, রসুন বাটা কিংবা ভাজা জিরার গুঁড়া যোগ করা যেতে পারে। কেউ চাইলে এতে অল্প পরিমাণ গাজর কুচি, বাঁধাকপি বা ক্যাপসিকামও মিশিয়ে নিতে পারেন।
অবশিষ্ট ভাতকে নতুনভাবে ব্যবহার করার এই সহজ কৌশল শুধু খাবারের অপচয় কমায় না, বরং পরিবারের জন্য তৈরি করে দেয় ভিন্ন স্বাদের একটি মুখরোচক নাস্তা। তাই পরেরবার ভাত বেঁচে গেলে তা ফেলে না দিয়ে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে তৈরি করে ফেলুন মজাদার বাসি ভাতের পাকোড়া।








