একা নয়, সঙ্গীর সঙ্গে খাবার খেলে নিয়ন্ত্রণে থাকে ব্লাড সুগার

সঙ্গীর সঙ্গে বসে খাবার খেলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক কম বাড়তে পারে। পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রা ও মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়াতেও এর ইতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয় ও শেবা মেডিকেল সেন্টারের গবেষকরা এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন। এতে ৫৪টি দম্পতির ১০৮ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া সব দম্পতি অন্তত নয় মাস ধরে একসঙ্গে ছিলেন। Earth.com-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ ব্যক্তিরা যখন সঙ্গীর সঙ্গে বসে একই খাবার খান, তখন একা খাওয়ার তুলনায় তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা কম বাড়ে এবং দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করে। গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের মোনিয়া মাসালহা ও শির আতজিল।
পরীক্ষার অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ১০২ গ্রাম সাদা পাউরুটি খেতে দেওয়া হয়, যাতে প্রায় ৫০ গ্রাম শর্করা ছিল। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী একই দিনে দুইবার সমপরিমাণ খাবার খান। এর মধ্যে একবার তারা একা খাবার খান এবং অন্যবার তাদের সঙ্গী একই ঘরে উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
পরীক্ষার ক্রম সব অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে একই রাখা হয়নি। দুই পরীক্ষার মধ্যে অন্তত চার ঘণ্টার ব্যবধান রাখা হয়েছিল। দম্পতিরা প্রাকৃতিক আলোযুক্ত একটি ঘরে সোফায় বসে খাবার খান। এ সময় তারা চাইলে একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে বা স্পর্শ করতে পারতেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
গবেষকরা দেখতে পান, সঙ্গীর সঙ্গে বসে খাবার খাওয়ার সময় একা খাওয়ার তুলনায় রক্তে শর্করার মাত্রা সামগ্রিকভাবে প্রায় ১৫ শতাংশ কম বাড়ে। আর যখন প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর প্রথম খাবারের প্রতিক্রিয়া আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, তখন দেখা যায়, সঙ্গীর উপস্থিতিতে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা প্রায় ২৪ শতাংশ কম ছিল।
গবেষণার আরেকটি অংশে অংশগ্রহণকারীদের এমন সেন্সর পরানো হয়েছিল, যেগুলো মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন শারীরিক লক্ষণ শনাক্ত করতে পারে। এর মাধ্যমে গবেষকরা বোঝার চেষ্টা করেন, সঙ্গীর উপস্থিতি শরীরের অন্যান্য প্রতিক্রিয়াকেও প্রভাবিত করে কি না।
বিজ্ঞাপন
এ জন্য ১১৬ জন প্রাপ্তবয়স্ককে একটি পরীক্ষায় ৫৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার ঠান্ডা ঘরে পাঁচ মিনিট রাখা হয়। এতে দেখা যায়, সঙ্গী পাশে থাকলে অংশগ্রহণকারীদের শরীরের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম কমে এবং পরে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
আরেক পরীক্ষায় ১১৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের বাহুতে দুটি হালকা বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা দেওয়া হয়। সঙ্গী পাশে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম দেখা যায়। তবে একই ব্যক্তিকে আলাদা পরীক্ষায় তুলনা করার সময় এই পার্থক্য ততটা স্পষ্ট ছিল না।
গবেষক শির আতজিল বলেন, গ্লুকোজের মাত্রা, শরীরের তাপমাত্রা ও মানসিক চাপ—এমন ভিন্ন ভিন্ন বিষয়েও একই ধরনের একটি প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে, যেগুলো সাধারণত আলাদাভাবে গবেষণা করা হয়। তবে সামাজিক সান্নিধ্য থেকে সবাই সমানভাবে উপকৃত হননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
তবে এই গবেষণার ফলাফলকে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বা দীর্ঘমেয়াদে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। কারণ গবেষণাটি মূলত খাবার গ্রহণের পর শরীরের স্বল্পমেয়াদি প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছে।
আতজিলের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর উপস্থিতি কিছু মানুষের শরীরকে সাময়িকভাবে বিভিন্ন শারীরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও তা থেকে পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে। এতে ওই মুহূর্তে বিপাকীয় সুবিধা তৈরি হতে পারে। তবে এই সুবিধা একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঠিক কতক্ষণ স্থায়ী হয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।








