পায়ের পাতার গড়নেই কি বোঝা যায় কেমন মানুষ আপনি?

মানুষের পায়ের আঙুলের গড়ন, দৈর্ঘ্য ও অবস্থানের পার্থক্য নিয়ে নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কারও পায়ের দ্বিতীয় আঙুলটি বৃদ্ধাঙুলের চেয়ে লম্বা, কারও আবার কয়েকটি আঙুল প্রায় সমান। এসব আকৃতির ভিত্তিতে মানুষের স্বভাব, ব্যক্তিত্ব ও আচরণ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যাও প্রচলিত আছে।
বিজ্ঞাপন
গ্রিক, রোমান, মিসরীয় ও পিজেন্ট ধরনের পায়ের আকৃতির পাশাপাশি ছোট আঙুল নড়াতে পারা বা না পারা, আঙুলের মধ্যকার ফাঁক এবং কোনো আঙুল বাইরের দিকে বাঁকানো—এসব বিষয় নিয়েও ব্যক্তিত্বের নানা বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়।
তবে শুরুতেই মনে রাখা দরকার, এসব ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এগুলো মূলত প্রচলিত বিশ্বাস ও কৌতূহলভিত্তিক ব্যাখ্যা।

গ্রিক পায়ের আকৃতি
বিজ্ঞাপন
যাদের পায়ের বৃদ্ধাঙুলের পাশের দ্বিতীয় আঙুলটি সবচেয়ে লম্বা, তাদের গ্রিক ধরনের পায়ের অধিকারী বলা হয়।
প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এ ধরনের মানুষ আবেগপ্রবণ এবং নেতৃত্ব দেওয়ার গুণসম্পন্ন হয়ে থাকেন। শিল্পকলার প্রতিও তাদের আগ্রহ থাকতে পারে বলে মনে করা হয়।
এ ছাড়া তারা প্রভাবশালী ও কিছুটা আগ্রাসী স্বভাবের হতে পারেন এবং অন্যদের প্রভাবিত করার ক্ষমতাও বেশি থাকে বলে ধারণা করা হয়।
বিজ্ঞাপন

রোমান পায়ের আকৃতি
রোমান ধরনের পায়ের গড়নকে সবচেয়ে প্রচলিত আকৃতিগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। এ ধরনের পায়ে সামনের দিকের কয়েকটি আঙুলের দৈর্ঘ্য প্রায় কাছাকাছি থাকে।
প্রচলিত ধারণায়, এ ধরনের মানুষেরা সামাজিক ও অতিথিপরায়ণ হন। তারা সহযোগিতাপ্রবণ এবং অনেক সময় অন্যের সিদ্ধান্ত বা নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেন বলেও মনে করা হয়।
বিজ্ঞাপন

মিসরীয় পায়ের আকৃতি
বৃদ্ধাঙুল থেকে ছোট আঙুলের দিকে ক্রমান্বয়ে আঙুলের দৈর্ঘ্য কমতে থাকলে সেটিকে মিসরীয় ধরনের পায়ের আকৃতি বলা হয়।
প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এ ধরনের মানুষ ব্যক্তিগত বিষয় গোপন রাখতে পছন্দ করেন। তাদের মেজাজে পরিবর্তন আসতে পারে এবং একা থাকতেও তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে মনে করা হয়।
বিজ্ঞাপন
তবে একই সঙ্গে তারা শান্ত ও স্থির প্রকৃতির হন এবং নিজেদের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন বলেও ধারণা রয়েছে।

পিজেন্ট পায়ের আকৃতি
যাদের পায়ের সব আঙুলের দৈর্ঘ্য কমবেশি একই রকম, তাদের পিজেন্ট ধরনের পায়ের অধিকারী বলা হয়।
বিজ্ঞাপন
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ ধরনের মানুষ শান্ত ও বিচক্ষণ হন। তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন এবং বাস্তববাদী হওয়ায় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহারিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে মনে করা হয়।

ছোট আঙুল নড়াতে না পারলে
কেউ যদি পায়ের পেশির সাহায্যে ছোট আঙুল নড়াতে না পারেন এবং হাত দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে সেটি নড়াতে হয়, তাহলে প্রচলিত ধারণায় তাকে শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এ ধরনের মানুষ রক্ষণশীল ও সংযত জীবনযাপন পছন্দ করেন বলে মনে করা হয়। তারা পরিশ্রমী এবং দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন বলেও ধারণা রয়েছে।
ছোট আঙুল নড়াতে পারলে
অন্যদিকে, যারা পায়ের পেশির সাহায্যে ছোট আঙুল নড়াতে পারেন, তাদের দুঃসাহসী ও পরিবর্তনপ্রিয় হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, তারা নতুন কিছু করতে আগ্রহী। অন্যরা যেসব কাজকে অস্বাভাবিক বা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন, সেসব কাজেও তারা আগ্রহ দেখাতে পারেন। একই ধরনের জীবনযাত্রায় দীর্ঘদিন স্থির থাকাও তাদের পছন্দ নয় বলে মনে করা হয়।
ছোট আঙুল খুব ছোট হলে
যাদের পায়ের ছোট আঙুল তুলনামূলকভাবে অনেক ছোট, তাদের বিদ্রোহী স্বভাবের বলে মনে করা হয়।
বিজ্ঞাপন
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, তারা সাধারণ মতামত অনুসরণ না করে নিজেদের চিন্তা ও আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দেন। নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী চলতেই তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে ধারণা করা হয়।
তৃতীয় আঙুল বাইরের দিকে বাঁকানো
পায়ের তৃতীয় আঙুল কিছুটা বাইরের দিকে বাঁকানো থাকলে সেই ব্যক্তিকে সংগঠিত ও ভবিষ্যৎমুখী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এ ধরনের মানুষ কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হন বলেও প্রচলিত ধারণা রয়েছে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় আঙুলের মধ্যে ফাঁক
পায়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় আঙুলের মধ্যে স্পষ্ট ফাঁক থাকলে প্রচলিত ধারণায় ওই ব্যক্তির বিশ্লেষণী ও যৌক্তিক চিন্তাশক্তি ভালো বলে মনে করা হয়।
তারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আবেগের চেয়ে যুক্তিকে বেশি গুরুত্ব দেন বলে ধারণা করা হয়। এ ধরনের মানুষ কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী, ভালো বিশ্লেষক এবং বাণিজ্যিক কাজে দক্ষ হতে পারেন বলেও প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে।
এসব ধারণা কতটা সত্য?
পায়ের আকৃতি বা আঙুলের গড়ন দেখে মানুষের ব্যক্তিত্ব, আচরণ কিংবা মানসিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণের এসব ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত থাকলেও এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
তাই পায়ের আঙুলের গড়ন দেখে কারও স্বভাব বা ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। বিষয়গুলোকে বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে না দেখে প্রচলিত বিশ্বাস, লোকজ ধারণা কিংবা কৌতূহলভিত্তিক তথ্য হিসেবেই দেখা উচিত।
সূত্র: লাইফ ইন্ সাউদি আরেবিয়া








