খালি পেটে চা পান করলে অন্ত্রের কী ক্ষতি হয়?

অনেকের দিন শুরু হয় এক কাপ চা দিয়ে। আবার কর্মব্যস্ত দিনের ক্লান্তি কাটাতে সন্ধ্যায় চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার অভ্যাসও রয়েছে অনেকের। বাড়ি, অফিস কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় চা পান যেন দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর খালি পেটে চা পান করলে হজমের সমস্যা হতে পারে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে চা পান করলেই সবার অন্ত্রের ক্ষতি হয়, এমন নয়। তবে যাঁদের হজমতন্ত্র সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে কড়া চা পান করলে অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, বমি বমি ভাব কিংবা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
খালি পেটে চা পান করলে কী সমস্যা হতে পারে?
অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকার পর কড়া চা পান করলে কিছু মানুষের পেটে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই অ্যাসিডিটি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চা পান করার পর উপসর্গ বাড়তে পারে।
বিজ্ঞাপন
শেষবার খাবার খাওয়ার অনেকক্ষণ পর চা পান করলে কারও কারও বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব কিংবা পেটে ব্যথা হতে পারে। আবার চায়ের সঙ্গে দুধ মিশিয়ে পান করার অভ্যাস থাকলে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতায় ভোগা ব্যক্তিদের পেট ফাঁপা ও পাতলা পায়খানার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কাদের খালি পেটে চা পান এড়িয়ে চলা উচিত?
যাঁদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স, গ্যাস্ট্রাইটিস, বদহজম কিংবা পেটের অন্যান্য সমস্যা রয়েছে, তাঁদের খালি পেটে কড়া চা পান না করাই ভালো। ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল ব্যক্তিদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বা রাতে চা পান করলে কারও কারও ঘুমের সমস্যা হতে পারে। তাই নিজের শারীরিক প্রতিক্রিয়া বুঝে চা পান করা উচিত। তবে চা পান করার পর কোনো অস্বস্তি না হলে সবার জন্য এটি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
চায়ের সঙ্গে কী খাওয়া ভালো?
খালি পেটে চা পান না করে সঙ্গে হালকা কিছু খাবার খেতে পারেন। ভাজা ছোলা, অল্প পরিমাণ বাদাম কিংবা অন্যান্য পুষ্টিকর নাশতা এ ক্ষেত্রে ভালো বিকল্প হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
চা পান করার পর নিয়মিত অ্যাসিডিটি, পেটব্যথা বা বমি বমি ভাব দেখা দিলে চায়ের কড়া ভাব কমিয়ে দেওয়া এবং খালি পেটে পান করা এড়িয়ে চলা ভালো। সমস্যা অব্যাহত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চা কি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?
চা শুধু জনপ্রিয় পানীয়ই নয়, এতে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা অন্ত্রের অণুজীবের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২০১৯ সালে ‘নিউট্রিয়েন্টস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় চা ও অন্ত্রের অণুজীবের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আমাদের পরিপাকতন্ত্রে বসবাসকারী অসংখ্য অণুজীবের সমষ্টিকে অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম বলা হয়। এটি হজম, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি বিভিন্ন পানীয়ও এই অণুজীবের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
চায়ে পলিফেনল নামের প্রাকৃতিক যৌগ রয়েছে। গ্রিন টিতে ক্যাটেচিন এবং কালো চায়ে থিয়াফ্ল্যাভিন উল্লেখযোগ্য। অন্ত্রের কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া এসব যৌগ ভেঙে বিভিন্ন বিপাকজাত পদার্থ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে চায়ের পলিফেনল অন্ত্রের অণুজীবের বৈচিত্র্য ও ভারসাম্যে ভূমিকা রাখতে পারে।
কিছু মানব গবেষণায় গ্রিন টি পান করার সঙ্গে উপকারী বিফিডোব্যাকটেরিয়ামের পরিবর্তনের সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে চা পান করলেই অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। চায়ের ধরন, পরিমাণ এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে, চা পান করার অভ্যাস একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের খালি পেটে কড়া চা পান না করে হালকা নাশতার সঙ্গে চা পান করা ভালো বিকল্প হতে পারে। পরিমিত চা পান, সুষম খাবার এবং নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখার মাধ্যমে চায়ের স্বাদ উপভোগ করার পাশাপাশি হজমের অস্বস্তিও কমানো সম্ভব।








