Logo

তারেক রহমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটের ব্যবহৃত বিমানে গুরুতর ত্রুটি, তদন্তে ভয়াবহ তথ্য

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৫
তারেক রহমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটের ব্যবহৃত বিমানে গুরুতর ত্রুটি, তদন্তে ভয়াবহ তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের একটি উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণে বড় ধরনের অনিয়মের ঘটনা সামনে এসেছে। সংস্থাটির একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গুরুতর প্রযুক্তিগত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ওই উড়োজাহাজ দিয়েই গত ২৫ ডিসেম্বর ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছিল, যেখানে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. মনসুরুল আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দিয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন ব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স) আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপমহাব্যবস্থাপক, প্রশিক্ষণ (এয়ারক্রাফট/অ্যারো) মো. জুবিয়ারুল ইসলাম।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৯ ও ১৭ ডিসেম্বর উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে একাধিক অসংগতি ও নিয়মভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ১০ ডিসেম্বর পরিচালিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা হয়, যা বোয়িং ৭৮৭-৯ ধরনের উড়োজাহাজের জন্য নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম। শুধু তাই নয়, ওই সময় উড়োজাহাজটির ত্রুটি নির্ণয় বা কার্যকারিতা পরীক্ষা সঠিকভাবে করা হয়েছিল কি না—সেই সংক্রান্ত কোনো নির্ভরযোগ্য নথিও তদন্ত কমিটি খুঁজে পায়নি।

বিজ্ঞাপন

তদন্তে দেখা গেছে, ১৫ দিনের ব্যবধানে একই যান্ত্রিক ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। গত ২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইটটি যখন মাঝ আকাশে ছিল, তখন আবারও এর ভিএফএসজি বিকল হয়ে যায়। কমিটির মতে, এ ধরনের ত্রুটির কারণে উড়োজাহাজটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা গিয়ারবক্সের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। প্রকৌশল বিভাগের এমন উদাসীনতার পরেও ত্রুটিপূর্ণ বিমানটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্যবহার করা হয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের এই চরম অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, এক বিমান থেকে যন্ত্রাংশ খুলে অন্যটিতে লাগানো এবং জরুরি ভিত্তিতে যন্ত্রাংশ পরিবহনের পেছনে এই বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। তদন্ত কমিটি এই আর্থিক ক্ষতির দায় নির্ধারণের পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াকে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল এবং মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটি জানিয়েছে, উড়োজাহাজটিতে কম ফুয়েল প্রেসারের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও তারা যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই সেটিকে উড্ডয়নের ছাড়পত্র দিয়েছিলেন। তাদের এই ভুল সিদ্ধান্তের কারণে জানমালের বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD