Logo

ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে সাড়ে ৪ কোটি পরিবার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:১২
ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে সাড়ে ৪ কোটি পরিবার
ছবি: সংগৃহীত

দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যেই পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের আট বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পাইলটিং কার্যক্রমে বরাদ্দ করা ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের জুলাই থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা বিতরণের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।

আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে নির্ধারণ হবে ভাতা

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ প্রক্সি মিন্স টেস্ট পদ্ধতি অনুসারে দেশের পরিবারগুলোকে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। শ্রেণিগুলো হলো অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত।

পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম পাওয়া নারী পরিবারপ্রধান ভাতা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে ভাতা দেওয়া হবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিভুক্ত তুলনামূলক কম স্কোর পাওয়া পরিবারগুলোর নারীপ্রধানকে। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সব নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, তবে ভাতার ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত প্রযোজ্য হবে।

সোমবার থেকে দেশের সব এলাকায় একযোগে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ কাজে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রথম পর্যায়ও সম্পন্ন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্য সংগ্রহকারীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন। মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে যুক্ত করা হবে। কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সিম কার্ড, সাইবার নিরাপত্তা, কর্মী ব্যবস্থাপনা ও নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) স্থাপনের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

চলতি অর্থবছরে ৪০ লাখ নারীকে কার্ড ও ভাতা

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার ধরে এ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের পর পিএমটি পদ্ধতিতে ডেটাবেজ থেকে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আরও জানান, চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি থাকবে। কার্ডটি সরকারের টাকাপের পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার অর্থ তুলতে পারবেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD