Logo

রোহিঙ্গা সংকটে অর্থনীতি ও পরিবেশে চাপ বাড়ছে: প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:১৩
রোহিঙ্গা সংকটে অর্থনীতি ও পরিবেশে চাপ বাড়ছে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নানা অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকট এসব চ্যালেঞ্জকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। যেহেতু সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও দেশটিতেই নিহিত। এ বিষয়ে রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের গুরুত্বের সঙ্গে একমত পোষণ করেন কানাডার প্রতিমন্ত্রী।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশের কানাডার মতো বন্ধুরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন। জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের পাশে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কানাডা। বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে দেশটি বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অংশীদার হতে পারে বলে বৈঠকে জানানো হয়। বাংলাদেশও প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানিয়েছে।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দক্ষ নার্স তৈরিতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডা। এ খাতে দেশটির বিদ্যমান কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশে ডাল ও তৈলবীজের মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদন এবং সরবরাহব্যবস্থায় সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট) মাধ্যমে বাংলাদেশে চলমান কার্যক্রম সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন কানাডার প্রতিমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে সরকারের কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়েও কথা হয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা কৃষি খাতে পরিকল্পনা গ্রহণ ও সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।

তথ্য ব্যবস্থাপনা ও উপাত্তভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে কানাডার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

রণদীপ সরাই জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেওয়ার বিষয়ে তাঁর দেশের আগ্রহ রয়েছে। এ অর্থায়ন থেকে বাংলাদেশের উপকৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনায় সহযোগিতার আগ্রহও প্রকাশ করে কানাডা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয়দের অবদান এবং কর্মদক্ষতার প্রশংসা করেন রণদীপ সরাই। তিনি জানান, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুজন ব্যক্তি বর্তমানে কানাডার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণ জানান দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কানাডার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার অজিত সিংসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD