রায়গঞ্জে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী আঞ্চলিক শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম (৫০) বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবনে মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। তাঁর সহকর্মীদের দাবি, অডিট কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত চাপ ও গালাগালের কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এ ঘটনায় অডিট কমিটির তিন সদস্যকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নিহত আব্দুস সালাম পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে রায়গঞ্জের নিমগাছী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
নিহতের সহকর্মী শফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী শাখায় অডিট করতে আসেন কর্মকর্তা জুলফিকার আলী, শাহজাহান হোসেন ও নাজিরুল ইসলাম। অডিটের সময় বিভিন্ন বিষয়ে শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুস সালামের ওপর চাপ প্রয়োগ ও গালাগাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শফিকুলের ভাষ্য, একপর্যায়ে আব্দুস সালাম অফিস থেকে বের হয়ে ভাড়া বাসায় চলে যান। পরে বিকেলে আবার অফিসে ফিরে তাঁকে অস্থিরভাবে পায়চারি করতে দেখা যায়। কারণ জানতে চাইলে তিনি শফিকুলকে বলেন, ‘আমার শরীর খারাপ লাগছে। কাল থেকে আর আমার অফিস করা হবে না। কোনো ভুল করে থাকলে আমাকে মাফ করে দিয়েন।’
বিজ্ঞাপন
পরে আব্দুস সালাম অফিসের বিশ্রামকক্ষে গিয়ে শুয়ে পড়েন। সহকর্মীরা তাঁর কাছে গেলে তিনি বলেন, ‘ওরা আমাকে বাঁচতে দিল না, ওরা আমাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে।’ এরপর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সহকর্মীরা স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসককে খবর দেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ সময় আব্দুস সালাম দুটি বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবনের কথা জানান বলে সহকর্মীরা দাবি করেন। পরে তাঁকে দ্রুত বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অডিট কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত চাপের কারণেই আব্দুস সালাম আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন অডিট কর্মকর্তাদের গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যালয় থেকে বের হতে বাধা দেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোনাখাড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জাব্বার মিয়া, ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি প্রবীন কুমার গুন এবং ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম বাবলু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে আব্দুস সালামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অডিট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।








