Logo

ওমরাহ করা হলো না, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ গেল মাদরাসা শিক্ষকের

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লা
১১ অক্টোবর, ২০২৬, ২১:৩৫
ওমরাহ করা হলো না, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ গেল মাদরাসা শিক্ষকের
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের পথে যাত্রা করেছিলেন মাদরাসার সহকারী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদর। কিন্তু মক্কায় পৌঁছে ইবাদত করার আগেই রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান ৩৫ বছর বয়সী এই শিক্ষক। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ১২ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছিল। নিহত ব্যক্তিদের একজন মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদর।

নাসরুল্লাহ বদর কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদরাসায় সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে নাসরুল্লাহ বদরের ভগ্নিপতি মাওলানা মো. নাসিরুদ্দিন ঢাকা পোস্টকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিজ্ঞাপন

নাসিরুদ্দিন জানান, শনিবার সকালে ৪৫ সদস্যের একটি কাফেলার সঙ্গে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন নাসরুল্লাহ বদর। তাঁদের যাত্রাপথে রিয়াদে দুই ঘণ্টার ট্রানজিট নির্ধারিত ছিল। ট্রানজিট শেষে মক্কার উদ্দেশে বিমানটি কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই সময় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান নাসরুল্লাহ বদরসহ ১২ জন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, কাফেলার ৪৫ জনের মধ্যে ৩২ জন সুস্থ রয়েছেন। অন্য ১৩ জন গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন নাসরুল্লাহ বদর। তাঁর দুই ছেলে মো. জামিল (৭) ও জাওয়াদ (২), আর একমাত্র মেয়ে নাবিলার বয়স পাঁচ বছর। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।

বিজ্ঞাপন

নাসরুল্লাহর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। স্ত্রী ও ছোট তিন সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপরই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্বজনেরা শোকে ভেঙে পড়েছেন।

মাওলানা নাসিরুদ্দিন বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নাসরুল্লাহ বদর নিহত হওয়ার পর গোটা পরিবার শোকে স্তব্ধ। ছোট ছোট তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ঘটনার পর থেকে আমরা নাসরুল্লাহ বদরের মরদেহের অপেক্ষা করছি। সরকারের পক্ষ থেকে এখনও তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখিনি। সরকারের কাছে আকুল আবেদন নাসরুল্লাহ বদরের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান জানিয়েছেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD