বৃষ্টিতে ডোবে বিকল্প পথ, গর্ত পেরিয়ে চলাচল ডিমলার বাসিন্দাদের

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় কালভার্ট নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় মাস আগে। কিন্তু দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এখনো সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃষ্টি হলে বিকল্প পথ পানিতে ডুবে যায়। তখন কালভার্টের দুই পাশের গর্ত পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় শিক্ষার্থী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ও পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনির হাটমুখী সড়কে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও অ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরি না হওয়ায় এর সুফল মিলছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় কাজ আটকে আছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্যেও স্থানীয়দের সঙ্গে মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্বাভাবিক সময়ে চলাচলে কিছুটা ভোগান্তি থাকলেও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। বিকল্প বাইপাস সড়ক পানিতে ডুবে গেলে কালভার্টের দুই পাশের গর্ত পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া, কৃষকদের ফসল বাজারে নেওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনে সমস্যা দেখা দেয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পশ্চিম ছাতনাইয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলে, কালভার্ট নির্মাণ হলেও অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় এটি দিয়ে চলাচল করতে পারছি না। বৃষ্টির দিনে বেশি কষ্ট হয়। বাইপাস সড়ক পানিতে ডুবে যায়। আর কালভার্টের দুই পাশে গর্ত থাকায় হামাগুড়ি দিয়ে পার হতে হয়। দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হলে যানবাহন নিয়েও চলাচল করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য কালভার্টটি নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি কাজে আসছে না। দ্রুত সড়ক নির্মাণ করে কালভার্টটি চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় কৃষক হাসমত আলী বলেন, এত টাকা খরচ করে কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও আমরা সেটি ব্যবহার করতে পারছি না। অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের কারণে কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। ফলে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও অবকাঠামোটি পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম বলেন, কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। তবে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বলেন, কালভার্টটি নির্মাণ করা হলেও প্রকল্প এখনো অনুমোদিত হয়নি। এ কারণে ঠিকাদার এখনো বিল করতে পারেননি। বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদার যে মাটি ফেলেছেন, স্থানীয় লোকজন তা কাটতে দিচ্ছেন না। ওই সড়কের মাটি অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করা হবে। এ কারণে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে বিষয়টি সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের মাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠিয়ে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণের আওতায় সময়ান্তর রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের অধীনে টুনিরহাট আরঅ্যান্ডএইচ–কলোনির হাট জিসি সড়কে বক্স কালভার্ট নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এ কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫৬ লাখ ৫২ হাজার ৭১৩ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৭৭ টাকা। নথি অনুযায়ী, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার উপজেলা মোড়, আদর্শপাড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এন অ্যান্ড সন্স কালভার্টটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে।
তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় স্থানীয়রা এখনো এর সুফল পাচ্ছেন না। মাটি ফেলা নিয়ে জটিলতা নিরসন করে দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, সমস্যার সমাধান হলে কালভার্টটি ব্যবহারযোগ্য হবে এবং যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ কমবে।








