কড়া নিরাপত্তায় কুড়িগ্রামের ধরলা ও দুধকুমার নদীর ঘাটে

ঢাকের ছন্দ, কাঁসরের ধ্বনি, শঙ্খনাদ ও উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শুভ বিজয়া দশমীতে টানা ছয় দিনের উৎসব শেষে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি চলছে কুড়িগ্রাম জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে। সকাল থেকেই বিভিন্ন মণ্ডপে চণ্ডীপাঠ, শান্তিজল গ্রহণ, সিঁদুর খেলা এবং দেবীর চরণে শেষ অঞ্জলি নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এখন ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ, আবেগ ও বিদায়ের বিষাদমাখা পরিবেশ।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী, ধর্মীয় রীতি ও উৎসবের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে আজ সন্ধ্যার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিসর্জন ও আনন্দ শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো কুড়িগ্রাম জেলায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। পূজামণ্ডপ, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় এবং বিসর্জন ঘাটগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন পর্যাপ্ত আনসার সদস্য ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।
জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় টহল দিচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। অন্যদিকে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পূজামণ্ডপ ও নদীর ঘাটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।
বিজ্ঞাপন
গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবারের দুর্গোৎসব। এ বছর সরকারি নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি বাড়িয়ে তিন দিন করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করছেন ছুটিপ্রাপ্ত মানুষ ও দর্শনার্থীরা। দীর্ঘ ছুটির কারণে উৎসবের আমেজ এবং দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
শুভ বিজয়া দশমী উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রীতি ও কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসবের শেষ দিনেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা তুলে ধরছেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
চলতি বছর কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে মোট ৫৬৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় রয়েছে ৮১টি মণ্ডপ। নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, চিলমারীসহ জেলার অন্যান্য উপজেলায় বাকি ৪৮৬টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়। এসব মণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আজ বিকেলের পর থেকে সুসজ্জিত ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনে প্রতিমা নিয়ে ঢাকঢোল বাজিয়ে শোভাযাত্রা সহকারে বিসর্জন ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ধরলা নদী এবং ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট-পাটেশ্বরী এলাকার দুধকুমার নদীর ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে ধর্মীয় রীতি মেনে সন্ধ্যার মধ্যেই বিসর্জন কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সমাপ্তি ঘটলেও মানুষের মধ্যে থেকে যায় শুভ শক্তির বিজয় এবং অশুভ শক্তির পরাজয়ের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে সব সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখার আহ্বানও বহন করে এই উৎসবের বিদায়বেলা।








