Logo

স্বাধীনতার কবি শামসুর রাহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:০৯
স্বাধীনতার কবি শামসুর রাহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
ফাইল ছবি।

তাকে বলা হয় স্বাধীনতার কবি, কবিতার বরপুত্র। আধুনিক বাংলা কবিতায় নাগরিক জীবন ও সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নিজের কবিসত্তার ভেতর ধারণ করে তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান। আজ ১৭ আগস্ট বরেণ্য এই কবির ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৬ সালের এই দিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

বিজ্ঞাপন

কবির নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকার বনানী কবরস্থানে তার মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

কবি শামসুর রাহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে বড় কোনো কর্মসূচির কথা জানা যায়নি। তবে ঢাকার বনানী কবরস্থানে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন পরিবারের সদস্য, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা। এছাড়া দেশে ও দেশের বাইরে থাকা কবি-ভক্তরা বিভিন্ন অনলাইন আয়োজনে তাকে স্মরণ করতে পারেন বলে জানা গেছে।

১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন শামসুর রাহমান। তার পৈতৃক বাড়ি নরসিংদীর পাড়াতলী গ্রামে। তিনি পোগোজ স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশের পর ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য অধ্যয়ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই কবিতার প্রতি গভীর ঝোঁক ছিল তার।

বিজ্ঞাপন

১৯৬৯-এর গণ অভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে শহীদ আসাদের রক্তাক্ত শার্ট তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। এ অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় তার কালজয়ী কবিতা ‘আসাদের শার্ট’। কবিতায় একটি রক্তাক্ত শার্ট হয়ে ওঠে প্রতিবাদী মানুষের প্রতীক। ব্যক্তির মৃত্যু সেখানে রূপ নেয় সামষ্টিক প্রতিরোধের শক্তিতে। শামসুর রাহমানের কবিতায় এভাবেই ব্যক্তিগত অনুভব ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে বৃহত্তর মানুষের জীবন ও ইতিহাসে। মুক্তিযুদ্ধ তার কবিসত্তাকে আরও গভীরভাবে বদলে দেয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাড়াতলী গ্রামে অবস্থান করে তিনি লেখেন ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’। ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতায় তিনি স্বাধীনতাকে কখনো শিশুর হাসি, কখনো মানুষের স্বপ্ন ও ভালোবাসার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন। অন্যদিকে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’ কবিতায় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য উঠে এসেছে রক্ত, মৃত্যু, নির্যাতন এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে।

কবিতার পাশাপাশি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা এবং সাংবাদিকতায় তিনি অবদান রেখেছেন। তিনি সাংবাদিক হিসাবে ১৯৫৭ সালে কর্মজীবন শুরু করেন দৈনিক মর্নিং নিউজে। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৮৭ সালে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এরপর তিনি অধুনা নামের একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিজ্ঞাপন

কবিতা ছাড়াও তিনি লিখেছেন উপন্যাস, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, ছড়া ও গল্প।

অনুবাদেও তিনি অবদান রেখেছেন। ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’, ‘রৌদ্র করোটিতে’, ‘নিজ বাসভূমে’, ‘বন্দী শিবির থেকে’সহ তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার।

আধুনিক বাংলা কবিতায় নাগরিক জীবন, প্রেম, রাজনীতি, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও মানুষের সংগ্রামকে শক্তিশালীভাবে তুলে ধরেছেন শামসুর রাহমান। তার কবিতা ও সাহিত্যকর্ম আজও পাঠকের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। মৃত্যুর দুই দশক পরও বাংলা সাহিত্যে তার সৃষ্টি ও অবদান তাকে স্মরণীয় করে রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD