জয়পুরহাটের গর্ব ‘লতিরাজ’ বিলুপ্তির পথে

জয়পুরহাটে একসময় গর্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল কচুর লতি, যা স্থানীয়ভাবে ‘লতিরাজ’ নামে খ্যাত। তবে সময়ের ব্যবধানে ঐতিহ্যবাহী এই কৃষিপণ্য এখন হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। চাষাবাদে অবহেলা, সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতায় দিন দিন কমে যাচ্ছে কচুর লতির উৎপাদন।
বিজ্ঞাপন
সকাল হলেই পাঁচবিবি উপজেলার বটতলী এলাকায় বসে কচুর লতির হাট। এই হাটকে ঘিরেই স্থানটির নাম হয়ে উঠেছে ‘লতিহাটি’। কিন্তু বাজারের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পণ্য সংরক্ষণের উপযুক্ত স্থান না থাকায় হারাতে বসেছে এ বাজারের ঐতিহ্য। এর সঙ্গে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে জয়পুরহাটের গর্ব ‘লতিরাজ’।
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, একসময় জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে কচুর লতি চাষ হতো। কিন্তু বর্তমানে সারের দাম বৃদ্ধি ও কৃষি উপকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পর্যাপ্ত পরামর্শ ও প্রণোদনার অভাবে অনেকেই এই চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতিদিন বাজারে কচুর লতির সরবরাহ কমে যাচ্ছে। ফলে চাহিদা থাকলেও বাজারে স্থিতিশীলতা নেই। সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং পণ্য সংরক্ষণেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে কৃষিবিদ ও সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে কচুর লতি আবারও জয়পুরহাটের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য হিসেবে ফিরে আসতে পারে। এজন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা এবং একটি সুসংগঠিত বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে জয়পুরহাটের এই ঐতিহ্যবাহী ‘লতিরাজ’ একসময় শুধুই স্মৃতিতে পরিণত হবে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পাঁচবিবি উপজেলায় বছরে তিন মৌসুমে কচুর লতি চাষ হয়। চলতি বছরে ৯৩০ হেক্টর জমিতে কচুর লতি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ এ চাষে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এছাড়া বাজার ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।








