Logo

ধর্মপাশায় পাকা ধান তলিয়ে কৃষকের স্বপ্ন চুরমার

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জ
৪ মে, ২০২৬, ১৫:১২
ধর্মপাশায় পাকা ধান তলিয়ে কৃষকের স্বপ্ন চুরমার
ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাকা ধান হারানোর আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। অনেকের স্বপ্নের ফসল ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে, আবার কোথাও ডুবুডুবু অবস্থায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কৃষকদের অভিযোগ, কয়েক দিনের ব্যবধানে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কাটা ধান শুকাতে না পেরে খলায় রাখা ফসলেও গজিয়ে যাচ্ছে চারা, ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ধান। যারা আগাম ধান কেটে কিছুটা স্বস্তিতে ছিলেন, তারাও এখন নতুন করে বিপাকে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই উপজেলার হাওরের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে ছোট ছোট বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।

বিজ্ঞাপন

শ্রমিক সংকটও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। যেখানে এক মন ধানের দাম প্রায় ৮০০ টাকা, সেখানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১,২০০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে ধান কেটে কৃষকদের উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় মোট আবাদকৃত জমির পরিমাণ ৩১ হাজার ৯১০ হেক্টর। এর মধ্যে হাওরে আবাদ হয়েছে ২৫ হাজার ১৮০ হেক্টর এবং নন-হাওরে ৬ হাজার ৭৩০ হেক্টর। অতিবৃষ্টিতে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৭৮৩ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে এবং প্রায় ২ হাজার ৭০৩ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।

টগার হাওরের কৃষক পরশ তালুকদার বলেন, আমার ৩২ কাঠা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারিনি। যদি বাঁধে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকত, তাহলে এমন ক্ষতি হতো না।

বিজ্ঞাপন

শৈলচাপড়া হাওরের কৃষক মির্জা রেজাউল করিম বলেন, ১,২০০ টাকা করে ১৪ জন শ্রমিক দিয়ে ধান কাটিয়েছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেই ধান বাড়িতে তুলতে পারিনি, সব পানিতে তলিয়ে গেছে। সামনে কীভাবে চলব জানি না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমরা কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় জানান, হাওর এলাকায় ঘুরে কৃষকদের দুর্দশা দেখেছি। অনেকেই কাটা ধান নিয়ে রোদ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, আবার অনেকের ধানে চারা গজিয়েছে। সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD