Logo

সালথায় মাঠজুড়ে এখন কৃষকের সোনালী স্বপ্ন পাটের সবুজ সমারোহ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
সালথা, ফরিদপুর
৪ মে, ২০২৬, ১২:৩৯
সালথায় মাঠজুড়ে এখন কৃষকের সোনালী স্বপ্ন পাটের সবুজ সমারোহ
ছবি: প্রতিনিধি

সোনালি আঁশে ভরপুর, ভালোবাসি ফরিদপুর শুধু স্লোগান নয়,বাস্তব চিত্র এখন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদে। দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে দুলছে সবুজ পাটগাছ, যেন কৃষকের স্বপ্ন আর সম্ভাবনার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।

বিজ্ঞাপন

চলতি মৌসুমে উপজেলার অধিকাংশ জমিতেই পাটের আবাদ হয়েছে, যা এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে আশাবাদী এ এলাকার কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে—গত বছরের তুলনায় যা প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই কৃষকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পাটক্ষেত। আগাছা দমন, সেচ দেওয়া, পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ—নানা পরিচর্যায় দিনভর ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। প্রতিটি গাছ যেন তাদের পরিশ্রমের জীবন্ত প্রতিফলন।

তবে এই আশার ছবির আড়ালেই রয়েছে দুশ্চিন্তার ছায়া। বাড়তি উৎপাদন খরচে চাপে পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলা সদরের কৃষক সোহেল বলেন, গাছ ভালো হয়েছে, ফলনের আশা আছে। কিন্তু খরচ যেভাবে বেড়েছে, তাতে লাভ নিয়ে শঙ্কা আছে। তেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বাজারে দাম ভালো না পেলে বিপদে পড়ব।

বিজ্ঞাপন

আরেক কৃষকের ভাষ্য, আগে এক বিঘা জমিতে পাট চাষে যেখানে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন তা বেড়ে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। শ্রমিকের মজুরি, সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধিই এ ব্যয়ের মূল কারণ।

কৃষকদের মতে, জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে সেচ, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার ও পোকা দমন—সবকিছুর খরচই বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সেচ ব্যয়কে বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।

বিজ্ঞাপন

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বাজারদরের অনিশ্চয়তা। গত বছর ভালো দাম পেলেও প্রতিবছরই দামের ওঠানামা কৃষকদের দুশ্চিন্তায় ফেলে। তাই চলতি মৌসুমে উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন শিকদার বলেন,পাটের আবাদ বৃদ্ধি কৃষকদের আগ্রহেরই প্রতিফলন। গত বছর তারা ভালো দাম পেয়েছেন, এবারও সেই আশা করছেন। পাট পচানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই, কৃষকরা যেন তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পান এবং পাটচাষ আরও লাভজনক হয়ে ওঠে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD