Logo

জলাবদ্ধতায় গৌরীপুরে বোরো ধান ডুবি, দুশ্চিন্তায় শতাধিক কৃষক

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
গৌরীপুর, ময়মনসিংহ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪:৪৬
জলাবদ্ধতায় গৌরীপুরে বোরো ধান ডুবি, দুশ্চিন্তায় শতাধিক কৃষক
ছবি: প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে কয়েকশ কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং পুরো এলাকার কৃষি উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিবৃষ্টি ছাড়াও বিল-খালে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন ও কিছু স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় স্বাভাবিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ধানক্ষেত ডুবে গেছে।

উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের কোণাপাড়া, সাহাবাজপুর, ইছুলিয়া, শালীহরসহ মাওহা, মইলাকান্দা, অচিন্তপুর ও সিধলা ইউনিয়নের বিভিন্ন বিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায় বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত। কোথাও আধাপাকা ধান রক্ষায় কৃষকেরা হাঁটু বা বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন, আবার কেউ কেউ নৌকা ব্যবহার করে ফসল উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞাপন

কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো শ্রমিক না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় খরচ বেড়ে গেছে, যা ক্ষতিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কোণাপাড়া গ্রামের কৃষক সাজেদা বলেন, আগাম বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটে তাদের ধান মাঠেই নষ্ট হচ্ছে। এখন কিছুই নিয়ন্ত্রণে নেই।

সাহাবাজপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ দুদু জানান, পানি না নামায় ধান ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। আবার যন্ত্র দিয়ে কাটাতে গেলে বাড়তি খরচ দিতে হচ্ছে, ফলে দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে গৌরীপুরে ২০ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৮ হাজার ৪৩০ মেট্রিক টন উৎপাদন। তবে সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতায় ইতোমধ্যে ২০০ হেক্টরের বেশি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ঋণ নিয়ে চাষ করা কৃষকেরা এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। তার মতে, অপরিকল্পিত পুকুর খনন ও অবৈধ বাঁধই মূলত জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাফরোজা সুলতানা জানান, জলাশয়ে পুকুর খনন বা বাঁধ নির্মাণে নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক। কেউ পানি প্রবাহ বন্ধ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন জলি বলেন, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতি হলেও পানি দ্রুত নামলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। কৃষকদের অবশিষ্ট ফসল দ্রুত কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD