কালবৈশাখীর থাবায় ভুট্টা চাষে বড় ধাক্কা, উঠোনেই ‘ঘামছে’ কৃষকের স্বপ্ন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার দেওয়ানজীকান্দি গ্রামে কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে ভুট্টা চাষে বড় ধাক্কা লেগেছে। মাঠ থেকে ঘরে তোলা ফসলও এখন পচনের ঝুঁকিতে পড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
বিজ্ঞাপন
কৃষি উদ্যোক্তা ইমরান হোসেন জানান, গত মাসের ঝড়ে তার ১৫০ শতক জমির ভুট্টা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে কষ্ট করে সেগুলো তুলে বাড়ির উঠোনে শুকাতে দেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে এখন সেই ভুট্টা নষ্ট হওয়ার উপক্রম।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, উঠোনজুড়ে প্লাস্টিকের চট দিয়ে ঢেকে রাখা ভুট্টার বড় স্তুপ। চট সরাতেই ভেতর থেকে বাষ্প বের হতে দেখা যায়। স্থানীয়দের মতে, একসঙ্গে স্তুপ করে রাখার ফলে ভুট্টার ভেতরে অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতা তৈরি হয়ে ‘ঘামার’ মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা দ্রুত পচনের কারণ হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
একই গ্রামের আব্দুল জব্বার, দুলাল হোসেন, শাহজালাল, জসীমউদ্দীন, হাবিব সিকদার ও মুজিবুর রহমানসহ অনেক কৃষকের ভুট্টাও একই ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেকের জমির ভুট্টা এখনো পানির নিচে ডুবে আছে।
কৃষক জসীমউদ্দিন বলেন, প্রথমে ঝড়ে ফসল পড়ে গেল, পরে যা তুলেছি সেটাও শুকাতে পারছি না। উঠোনে রাখা ভুট্টা এখন ঘেমে নষ্ট হওয়ার মতো অবস্থা। আর কয়েকদিন এমন আবহাওয়া থাকলে সব শেষ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২,৪৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অন্তত ৫০ হেক্টর জমির ভুট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে ভুট্টা ও বোরো ধান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেন ফসল স্তুপ করে না রেখে ছড়িয়ে শুকানোর ব্যবস্থা করেন। এতে পচন কমবে।
তিনি আরও জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।








