কিশোরগঞ্জে ভারি বর্ষণে কৃষকের ধান পানির নিচে

কিশোরগঞ্জ জেলায় টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে হাওর অঞ্চলের অধিকাংশ বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হাওরের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত হওয়ায় ফসল ঘরে তুলতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
বিজ্ঞাপন
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অব্যাহত বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে অনেক এলাকায় আগাম বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে পাকা ধান কাটার মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে জেলার বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে পানি কমার পরিবর্তে আরও বাড়ছে। অষ্টগ্রাম উপজেলা এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া ইটনা উপজেলা, মিঠামইন উপজেলা, নিকলী উপজেলা, তাড়াইল উপজেলা, করিমগঞ্জ উপজেলা ও বাজিতপুর উপজেলা এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জমিতে পানি বেড়ে যাওয়ায় হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১৩ উপজেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এ বছর জেলায় ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার বড় অংশ হাওর অঞ্চল থেকে আসার কথা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে।
নিকলী উপজেলার কৃষক আব্দুল হেলিম বলেন, ধান কাটার সময় হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। অনেকেই ঋণ করে চাষ করেছেন—এখন কীভাবে ঋণ শোধ করবো বুঝতে পারছি না।
বিজ্ঞাপন
আরেক কৃষক জুয়েল মিয়া বলেন, ঋণ করে চাষ করেছিলাম, কিন্তু বৃষ্টিতে ফসল ডুবে গেছে। বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, হাওর এলাকায় এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। আমরা আগে থেকেই কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
বিজ্ঞাপন
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এখনো পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে টানা বৃষ্টিতে পানি বাড়ছে। আগাম সতর্কতা হিসেবে ৮০ শতাংশ পাকা হলেই ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।








