বাম্পার ফলনের পরও হাসি নেই কাপাসিয়ার কৃষকের মুখে

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হলেও ঝড়-বৃষ্টি, শ্রমিক সংকট ও বাজারে ধানের কম দামের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। টোক, সিংহশ্রী, রায়েদ, বারিষাব ও কড়িহাতা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিনই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার প্রভাবে পাকা ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কয়েকদিন ধরে অনিয়মিত বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় অনেক জমিতে পানি জমে গেছে। এতে কেটে রাখা ধান ভিজে নষ্ট হচ্ছে। কোথাও কোথাও ধান গাছ নুয়ে পড়েছে, আবার কিছু জমিতে কাটা ধান পানিতে ভেসে গেছে। ফলে ফলন ভালো হলেও উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে না পারায় লোকসানের শঙ্কা বাড়ছে।
টোক ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ‘ধান ভালো হয়েছে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাটতে পারছি না। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। ১ হাজার টাকার বেশি মজুরি দিয়েও লোক মিলছে না।’
বিজ্ঞাপন
সিংহশ্রী ইউনিয়নের কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, ‘কেটে রাখা ধান কয়েকদিন ভেজা অবস্থায় থাকায় অঙ্কুর বের হয়ে গেছে। এসব ধান আর বাজারে বিক্রি করা যাচ্ছে না।’
দিনাজপুর থেকে আগত শ্রমিক সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রায় ৪০ জন এখানে কাজ করতে এসেছি। বীর উজলী বাজারের পাশে অবস্থান করছি। দৈনিক ১ হাজার টাকা মজুরিতে ধান কাটছি। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিঘাপ্রতি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা চুক্তিতেও ধান কাটা হচ্ছে।’
রায়েদ ইউনিয়নের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ধানের দাম কম, আর শ্রমিকের মজুরি বেশি। সব মিলিয়ে খরচই উঠবে না মনে হচ্ছে।’
বিজ্ঞাপন
বারিষাব ইউনিয়নের কৃষক জহিরুল ইসলাম জানান, ‘ধান শুকানোর মতো রোদ নেই। ভেজা ধান ঘরে তুললে গন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অনেক ধান নষ্ট হচ্ছে।’
কড়িহাতা ইউনিয়নের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘মাঠে পানি জমে থাকায় খড়ও শুকাতে পারছি না। এতে গবাদিপশুর খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
বীর উজলী গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের বাজারমূল্য অনেক কম। এতে করে খরচ উঠানোই কঠিন হয়ে পড়ছে, লাভ তো দূরের কথা।’
বিজ্ঞাপন
এদিকে দিনমজুররা বলছেন, ভেজা জমিতে ধান কাটা ও বহন করা কষ্টসাধ্য হওয়ায় শ্রমের পরিমাণ বেড়েছে। তাই তারা বেশি মজুরি দাবি করছেন। ফলে কৃষকদের খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাগেরহাটে এক বাগানেই ৫০ জাতের আম
কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আউলিয়া খাতুন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার ৯৫০ হেক্টর এবং অর্জনও একই পরিমাণ হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৮৫০ হেক্টর এবং উফশী জাতের আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বাম্পার ফলনের পরও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিক সংকট ও বাজার পরিস্থিতির কারণে কাপাসিয়ার কৃষকদের মুখে এখন হাসি নেই, বরং লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।








