Logo

ঠিক সময়ে সার পড়েনি ভুট্টার জমিতে, ফলন কমের শঙ্কায় শেরপুরের চাষিরা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
শেরপুর, বগুড়া
২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮:০৪
ঠিক সময়ে সার পড়েনি ভুট্টার জমিতে, ফলন কমের শঙ্কায় শেরপুরের চাষিরা
ছবি: সংগৃহীত

সময়মতো সার প্রয়োগ করা না যাওয়ায় ভুট্টার ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কৃষকেরা। মাঠে এখন ভুট্টা কাটার ব্যস্ততা, কোথাও চলছে মাড়াইয়ের প্রস্তুতি। কম খরচে তুলনামূলক বেশি লাভ হওয়ায় প্রতিবছর ধান আবাদ কমিয়ে ভুট্টার দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা। তবে চলতি মৌসুমে সারের সংকট, ঝড়ের ক্ষতি ও বাজারদরের অনিশ্চয়তা তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছর ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৫০০ হেক্টর। এর বিপরীতে চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ হাজার ৭০৭ মেট্রিক টন। গত মৌসুমে ৩ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে চাষ করে উৎপাদন হয়েছিল ৪০ হাজার ৬৬৩ মেট্রিক টন। তবে এবারে আগের তুলনায় প্রণোদনা না থাকলেও জমিতে বেশি চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলার খানপুর ইউপির সালফা এলাকার কৃষক আব্দুল বাছেদ বলেন, “বীজ রোপণ থেকে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত এবার বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা। গত বছর ৩৭ মণ পেয়েছিলাম। এ বছর ৪০ থেকে ৪৫ মণ হতে পারে বলে আশা করছি।”

বিজ্ঞাপন

একই এলাকার কৃষক শাহেদ বলেন, “ভুট্টার মোচা দেখে ভয় লাগছে। সারের সংকটে ঠিকমতো জমিতে সার দিতে পারিনি। ঝড়েও ক্ষতি হয়েছে। ফলে ফলন কম হতে পারে।”

কৃষক রেজাউল করিম বলেন, “মৌসুমের শুরুতে সার পাই না, পরে বেশি দামে কিনতে হয়। আবার ভুট্টা তোলার সময় আমদানির কারণে দাম কমে যায়। এখন ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা মণ। তবে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা হলে কিছুটা লাভ থাকত।”

আরেক কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “গত বছর ৪০-৪২ মণ পেয়েছিলাম। এবার মোচা ছোট লাগছে। বাতাসে অনেক গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সার ও বীজের দামও বেশি ছিল। লাইনে দাঁড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় সার কিনতে হয়েছে।”

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার বলেন, “চলতি বছর কৃষকেরা নিজের উদ্যোগেই বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। কোনো প্রণোদনা না থাকলেও তারা আগ্রহ নিয়ে চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সামগ্রিকভাবে ফলন ভালো হয়েছে। একই সময়ে চাষ করায় রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ তুলনামূলক কম।”

কৃষকেরা জানান, ভুট্টা চাষে জমি প্রস্তুতের সময় পটাশ, ফসফেট, জিপসাম, বোরন ও সালফার প্রয়োগ করা হয়। পরে বিঘাপ্রতি প্রায় ৩ কেজি বীজ রোপণ করা হয়। এক মাস পর ইউরিয়া ও ডিএপি প্রয়োগ করে সেচ দেওয়া হয়। সাধারণত ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ভুট্টা কাটা যায় এবং এ ফসলে সেচের প্রয়োজনও তুলনামূলক কম।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD