ধর্মপাশায় বোর ধান পানির নিচে, রোজ শ্রমিক মজুরি ১২০০ টাকা

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ভারী বৃষ্টি ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকার ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে শ্রমিক সংকট ও উচ্চ মজুরির কারণে ধান কাটার কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলার ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৫টি হাওরে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। গত ১২ থেকে ২৮ মার্চের ভারী বৃষ্টিতে ১৬টি হাওরের প্রায় ৪১০ হেক্টর জমির ধান শীষ বের হওয়ার সময় পানির নিচে তলিয়ে যায়। এর মধ্যে ১৩টি হাওরের ধান সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।
সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের জারারকোন গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার জানান, এবার অস্বাভাবিক বৃষ্টিতে ফসল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার বাড়ির পাশের বিলের ৩৫ কেয়ার জমির ধান পানিতে তলিয়ে এখন প্রায় ৬ ফুট পানির নিচে রয়েছে বলে তিনি জানান।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে জয়শ্রী ইউনিয়নের বাদে হরিপুর গ্রামের কৃষক ছোটন তালুকদার বলেন, পাকা ধান থাকলেও হাওরের পানির উচ্চতা বেশি থাকায় হারভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে শ্রমিকের ওপর নির্ভর করেই ধান কাটতে হচ্ছে। এতে শ্রমিক সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধি কৃষকদের চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। বর্তমানে ধান কাটার শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় পৌঁছেছে, অথচ বাজারে ধানের দাম মনপ্রতি মাত্র ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ধান পরিবহন ও মাড়াইয়ের খরচও বেড়ে গেছে। এতে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে লোকসান মেনে জমির ধান অর্ধেক ভাগে শ্রমিকদের দিয়ে কাটাচ্ছেন।
সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ঘুলুয়া গ্রামের কৃষক পাশা মিয়া বলেন, “খরচ বেড়ে গেছে, কিন্তু ধান কাটার সময় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও ১২০০ টাকা রোজ চাচ্ছে। এই দামে ধান কেটে কোনো লাভ থাকে না।”
বিজ্ঞাপন
এদিকে ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসয়াদ বিন খলিল রাহাত জানান, অকাল বৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় ১৬১৭ একর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং প্রায় ২০০০ একর জমির ধান ২ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। তিনি বলেন, শ্রমিক ছাড়া ধান কাটার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাইরে থেকে শ্রমিক আনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে শ্রমিকরা ১২০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে ধান কাটছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
কৃষকরা দাবি করেছেন, দ্রুত শ্রমিক সংকট নিরসন ও ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে অবশিষ্ট ফসল ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে, এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা।








