Logo

হাওরে চলছে বোরো ধান কাটার উৎসব

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জ
১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:২৪
হাওরে চলছে বোরো ধান কাটার উৎসব
ছবি: প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে শুরু হয়েছে আগাম বোরো ধান কাটার উৎসব। হাওর, বাওর ও ভাটির জনপদ হিসেবে পরিচিত এ অঞ্চলের মাঠজুড়ে এখন কৃষকের ব্যস্ততা—পাকা ধান ঘরে তোলার প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর চারপাশ।

বিজ্ঞাপন

জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ইতোমধ্যে আগাম পাকা দেশি ও উন্নত জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটার কার্যক্রম শুরু হবে।

মাঠে একদিকে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের গর্জন, অন্যদিকে স্থানীয় শ্রমিকদের কাস্তের ঝলক—সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজে কৃষাণীরাও সমানভাবে অংশ নিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন। সব ফসল ঘরে উঠলে হাজার কোটি টাকার ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবও পড়েছে কিছু এলাকায়। শিলাবৃষ্টির কারণে প্রায় ৩ হাজার ৮৬৪ হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। যদিও স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।

হাওরাঞ্চলে বোরো ধানই কৃষকদের বছরের প্রধান ফসল। আগাম বন্যা বা শিলাবৃষ্টির ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক তাদের স্কুল-কলেজপড়ুয়া সন্তানদেরও কাজে যুক্ত করছেন।

বিজ্ঞাপন

নিকলী উপজেলার নানশ্রী এলাকার কৃষক মো. মোস্তফা বলেন, “হাইব্রিড ও উন্নত জাতের ধানে ভালো ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলনের আশা করছি।”

অন্যদিকে দোয়ারহাটি এলাকার কৃষক মো. হারুন জানান, “আগাম বন্যা বা শিলাবৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে দ্রুত ধান কাটার চেষ্টা করছি।”

বিজ্ঞাপন

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় বর্তমানে ৩৯৫টি হারভেস্টার মেশিন রয়েছে এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুদ আছে। ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯সহ উন্নত জাতের ধান কাটার কাজ চলছে, যা ফলন ও স্বাদের কারণে কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ১৮ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে ধান কাটা শুরু হয়েছে এবং আগামী ১-২ সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছেন তিনি।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD