হিমাগারে জায়গা নেই, আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক

দিনাজপুরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ উপজেলার একমাত্র হিমাগার ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজ-এ আলু সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এতে করে ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও হাকিমপুর উপজেলার আলু চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
হাকিমপুর উপজেলার খট্টামাধবপুর গ্রামের কৃষক মমিনুল ইসলাম এ বছর তিন বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেন। তিনি ১৯ বস্তা আলু নিয়ে হিমাগারে এসে জানতে পারেন, আর কোনো জায়গা খালি নেই। এতে করে সময় ও অতিরিক্ত পরিবহন খরচ—দুই দিকেই ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে।
শুধু মমিনুল ইসলাম নন, একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন এরশাদ আলী, জাকিরুল ইসলাম, কবির হোসেন ও নূরুন্নবীসহ শতাধিক কৃষক। সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রাক্টর, ভটভটি ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে আলু নিয়ে এসে জায়গা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন কৃষকরা।
বিজ্ঞাপন
কৃষকদের অভিযোগ, হিমাগারে আলু সংরক্ষণে ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ফলে কৃষকের আলু আসার আগেই ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের মাধ্যমে স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রকৃত চাষিরা তাদের উৎপাদিত আলু সংরক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন না।
নবাবগঞ্জের আফতাবগঞ্জ এলাকার নারী কৃষক বিজলী রানী জানান, তিনি আগেভাগে বীজ আলু সংরক্ষণ করতে পারলেও এখন নতুন করে আলু রাখার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে পাকাপান গ্রামের কৃষক শাহাজাহান আলী বলেন, হিমাগারে জায়গা না পেয়ে তিনি এবার আলু বিক্রি করে আগামীতে বীজ কিনে আবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে হাকিমপুরের কৃষক নূরুন্নবী জানান, কম দামে আলু বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতে হয়েছে। পরে ভালো দামের আশায় আলু সংরক্ষণ করতে এসে জায়গা না পেয়ে দ্বিগুণ পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কোল্ড স্টোরেজের প্রধান হিসাবরক্ষক আবুল হাসান বলেন, কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়েই আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। হিমাগারটির ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৬০ হাজার বস্তা হলেও ইতোমধ্যে ১ লাখ ৭১ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে, ফলে জায়গার অভাবে নতুন আলু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফ আব্দুলাহ্ মোস্তাকিন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১,৪৮০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ আবাদ নিশ্চিত করতে বীজ আলু সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
বিজ্ঞাপন
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. আনিছুজ্জামান বলেন, আলুর দাম কম থাকায় কৃষকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও সংরক্ষণের দিকে ঝুঁকেছেন, এতে হিমাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কৃষকদের মতে, দ্রুত হিমাগারের সংখ্যা ও ধারণক্ষমতা বাড়ানো না হলে ভবিষ্যতে আলু উৎপাদন ও বীজ সংরক্ষণ—উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।








