কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজে বাম্পার ফলন, চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত প্রায় ২ লাখ টন

কুষ্টিয়া জেলায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকার পাশাপাশি কৃষি বিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। চলতি অর্থবছরে পেঁয়াজ রোপণের জন্য লক্ষ্য রাখা হয়েছিল ১৪,২৭৯ হেক্টর জমিতে, কিন্তু আবাদ হয়েছে ১৫,৯৫০ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও বেসরকারিভাবে আরও বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জেলার কৃষকরা মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলা এবং পেঁয়াজ পরিস্কার করে ঘরে তোলার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছে। কাক ডাকা ভোর থেকে দিনব্যাপী পেঁয়াজ ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তোলা, বাড়িতে নিয়ে এসে পরিস্কার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক কৃষানিরা। পেঁয়াজের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষি অফিসের তথ্য মোতাবেক এ বছর চাহিদার তুলনায় প্রায় ২ লাখ মেঃটন পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত থাকবে।
গত বছরের চেয়ে কম দামে পেঁয়াজের বীজ ক্রয়, চারার মূল্য কম, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চাষীরা এবার ব্যাপকহারে পেঁয়াজ রোপন করেছে বলে কৃষকেরা জানান। তবে চলতি মৌসুমে শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধি, তেলের মূল্য বেশী হওয়ায় সেচের মূল্য বৃদ্ধি, সার-কীটনাশকের দাম বেশী এবং পেঁয়াজের মাটি প্রস্তুতে খরচ বেশী হওয়ার পরেও চাষীরা পেঁয়াজের বাজার দর বেশী পাওয়ায় চাষীরা আনন্দিত।
বিজ্ঞাপন
পেঁয়াজ চাষীরা জানান, যে পরিমান খরচ হচ্ছে তার চেয়ে উৎপাদন বেশী হাওয়ায় এবং পেঁয়াজের মূল্য বাজারে বেশী পাওয়ায় তারা ক্ষতির চেয়ে লাভবান হচ্ছে বেশী বলে প্রকাশ করছে চাষীরা। গত বছরে যে পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজী দরে বিক্রি করেছে সেই পেঁয়াজ বর্তমানে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজী দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় তাহেরপুরী, বারী পেঁয়াজ-১, কিংসুপার ও মেটাল, ক্রস-৮০ ও হাই বিট এই ৬ জাতের পেঁয়াজ কৃষকেরা রোপন করছে। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৪ হাজার ২৭৯ হেক্টর জমি, সেখানে অর্জিত হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমি। কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ২ হাজার ৬৬০ হেক্টর, খোকসা উপজেলায় ৪ হাজার ১৭ হেক্টর, কুমারখালী উপজেলায় ৪ হাজার ৭৮৫ হেক্টর, মিরপুর উপজেলায় ৫৭২ হেক্টর, ভেড়ামারা উপজেলায় ২৭০ হেক্টর ও দৌলতপুর উপজেলায় ৩ হাজার ৬৪৬ হেক্টর। তবে কৃষকরা জানায় কৃষি অফিসের দেয়া তথ্যের চেয়ে মাঠ পয্যায় কৃষকের পেঁয়াজ অনেক বেশী রোপন হয়েছে।
গত বছরের লক্ষ্যমাত্র্য ছিল ১৩হাজার ২৪২ হেক্টর, অর্জিত হয়েছিল ১৩ হাজার ৯৭৯ হেক্টর । তবে এলাকা ভেদে কিংস ও ক্রস-৮০ পেঁয়াজ বেশী আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হলেও উৎপাদন হয়েছে বিঘা প্রতি ৭০ থেকে ৮০ মন পেঁয়াজ। প্রতি মন পেঁয়াজ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে চাষীদের প্রতি বিঘা পেঁয়াজ আবাদ করে ৪০ হাজার টাকা লাভ করছে। আরো দাম বাড়ার আশায় পেঁয়াজ চাষীরা তাদের ঘরে, চাতালে পেঁয়াজ মজুদ করছে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা দলবদ্ধভাবে শ্রমিক নিয়ে পেঁয়াজ তোলা কাজ করছেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেঁয়াজের বীজ গেল বছর খোলা ৬ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর তা কমে বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫’শ থেকে ৩ হাজার টাকায়।
বিজ্ঞাপন
পেঁয়াজের চারা গত বছর ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় কেজী বিক্রি হলেও এবার বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজী। বীজ, চারা, সার, পরিচর্যাসহ এবার বিঘাপ্রতি পেঁয়াজ উৎপাদনে চাষিদের খরচ হবে ৩৫ থেকে ৪০হাজার টাকা। এ বছর বিদেশি কিংসুপার, ক্রস-৮০, বারী-১, তাহেরপুরি, মেটাল ও হাই ব্রীট জাতীয় চারা রোপণ করা হয়েছে। এতে বিঘায় ৬০থেকে ৮০ মণ পেঁয়াজ উৎপন্ন হবে। যার বাজার মূল্য হবে ৬০ থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া শহরতলী বাড়াদী গ্রামের চাষি নরেশর আলী বলেন, ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। তবে খরচের চেয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করে তেমন লাভ হচ্ছেনা।
আরেক চাষি ময়েজ বলেন, পেঁয়াজ চাষে খরচ কমেছে। এবার বিঘাপ্রতি খরচ হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ৫ বিঘা জমির পেঁয়াজের চারা রোপণ করেছিলাম। নিয়মিত পরিচর্যা করেছি। ফলন ভালো পেয়েছি।
বিজ্ঞাপন
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া জানায়, পেঁয়াজ চাষিদের অর্থকারী ফসলের মধ্যে অন্যতম। এ অঞ্চলের মাটি পেঁয়াজ চাষে উপযোগী। উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা সব সময় কৃষকদের পেঁয়াজ চাষে পরামর্শ দিয়ে আসছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক জানান, কুষ্টিয়া জেলায় ৫০ হাজার মেঃটন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। সেখানে চলতি বছরে প্রায় ২ লাখ মেঃটন পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত থাকবে।








