শ্রীনগরে সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। মাঠজুড়ে এখন পাকা সরিষা কাটা, ঝাড়াই ও মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
বিজ্ঞাপন
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলায় প্রায় ৪৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছিল। তবে চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৫০ হেক্টরে। এতে কৃষকরা আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ আড়িয়ল বিল এলাকার বাড়ৈখালী, মদনখালী, শ্রীধরপুর, আলমপুর, লস্করপুর, গাদিঘাট, ঘোলঘর, খৈয়াগাঁও ও বীরতারাসহ ভাগ্যকুল ও বাঘড়া ইউনিয়নের পদ্মার চর এলাকাতেও ব্যাপক সরিষার আবাদ হয়েছে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে এখন পাকা সরিষা কাটার দৃশ্য।
আরও পড়ুন: প্রথমবার ‘সুপার কিং’ পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাজারে সরিষার দামও তুলনামূলক ভালো। শ্বেতি সরিষা প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকায়। দেশি কালো জাতের রাই বা চৈতা সরিষা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। এছাড়া কালো মাঘি সরিষা প্রকারভেদে ৩ হাজার ২০০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় সরিষা চাষিরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। ফলে তারা সন্তোষজনক উৎপাদন পাচ্ছেন। অনেক কৃষকই লাভের আশায় সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা চাষে লাভ বেশি। সরিষা থেকে ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি শুকনো গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া সরিষার খৈল পশুখাদ্য হিসেবে বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলার পূর্বাঞ্চলে গত দুই মৌসুমে আলু চাষে লোকসানের মুখে পড়েছিলেন অনেক কৃষক। ফলে অনেকে এবার সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। চলতি মৌসুমে আলুর বাজারমূল্য কম থাকায় আলু চাষিরাও কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
ভাগ্যকুল এলাকার কৃষক মো. কাউসার জানান, তিনি পদ্মার চরে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন এবং ইতোমধ্যে সরিষা কাটা শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শ্রীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিন সাদেক জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে ৪০টি প্রদর্শনী প্লটও করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সরিষার ফলন আশানুরূপ হয়েছে বলে তিনি জানান।








