Logo

হারিয়ে যাচ্ছে জলাশয়ের প্রাণপ্রিয় পাখি পানকৌড়ি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ মার্চ, ২০২৬, ১৬:৫৬
হারিয়ে যাচ্ছে জলাশয়ের প্রাণপ্রিয় পাখি পানকৌড়ি
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের নদী, খাল-বিল, হাওর-বাওর—যেখানে জল আছে, সেখানে পানকৌড়ির বিচরণ। কিন্তু একসময় যা ছিল অতি পরিচিত দৃশ্য, আজ তা ক্রমেই কমে আসছে। দেশের জলাশয়ে পানকৌড়ির সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং এই কারণে এই জলচর পাখিকে বাংলাদেশে সংরক্ষিত প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পানকৌড়ি (Phalacrocoracidae) বা ইংরেজিতে ‘Cormorant and Shag’ মূলত জলের সঙ্গে গভীর মিতালি রাখে। এরা দীর্ঘ সময় জলে কাটাতে পছন্দ করে। কখনো নীরবে পানিতে ডুবে যায়, কিছুক্ষণ পর আবার ভেসে ওঠে। দক্ষ ডুবুরির মতো পানি ভেদ করে ছোট ছোট মাছ শিকার করা এদের প্রধান খাদ্য।

জলকেলি এবং জলের ওপর ভেসে বা ডানা মেলে রোদ পোহানো এদের প্রিয় অভ্যাস। দিনের এক সময়ে জলের ধারে গাছের ডালে বসে সূর্যের উষ্ণতায় ভেজা শরীর শুকিয়ে নেয়।

বিজ্ঞাপন

পানকৌড়ির দেহ সাধারণত কালচে বা গাঢ় বাদামি, দূর থেকে অনেকটা কালো মনে হয়। পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৪০ প্রজাতির পানকৌড়ি রয়েছে। এরা সাধারণত দলবদ্ধভাবে বড় বড় গাছে বাসা বাঁধে। বর্ষা ও শরৎকালই এদের প্রজনন মৌসুম, যা জুলাই থেকে অক্টোবর (আষাঢ়-কার্তিক) পর্যন্ত চলে। এই সময় ডিম পাড়ে এবং তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে ছানা বের হয়।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন-এর গবেষণা কর্মকর্তা শিহাব খালেদীন জানান, পানকৌড়িসহ অন্যান্য জলচর পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার মূল কারণ হলো জলাভূমির ধ্বংস, বাসা বাঁধার গাছের নিধন, মানুষের নির্যাতন, মাছের ঘাটতি, দূষণ এবং কলোনি বা উপনিবেশের উপর বিশৃঙ্খলা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় পানকৌড়িসহ সব ধরনের পাখিকে সংরক্ষণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

এক সময় দেশের জলাশয়ে অহরহ দেখা যেত পানকৌড়ির, তবে বর্তমানে সেই দৃশ্য বিরল। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই জলচর পাখির সংখ্যা আরও কমে যেতে পারে। তাই জলাভূমি ও বাসস্থান রক্ষা, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রজনন স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD