শাহজাদপুরে ফসলের মাঠে সূর্যের হাসি

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে প্রতিবছরই বাড়ছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ। লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক এ চাষে ঝুঁকছেন। এ বছরও ফুলে ফুলে ভরে গেছে ফসলের মাঠ। সূর্যমুখীর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বাগানে ভিড় করছেন সৌন্দর্যপিপাসুরা।
বিজ্ঞাপন
শাহজাদপুরে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ হলেও সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু হয়েছে গত কয়েক বছরে। নতুন ফসল হলেও পরীক্ষামূলক চাষে আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় এখন কৃষকেরা বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী চাষের স্বপ্ন দেখছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শাহজাদপুরের মাটি সূর্যমুখী চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তবে আগে এ অঞ্চলের কৃষকদের কাছে সূর্যমুখীর অপার সম্ভাবনার বিষয়টি ততটা পরিচিত ছিল না।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে পুরো উপজেলায় প্রায় ৬ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হচ্ছে। এতে প্রায় ১০ মেট্রিক টন সূর্যমুখী বীজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
সূর্যমুখীর সমারোহ দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ এলাকার দৃষ্টিনন্দন সূর্যমুখী চাষের ছবি দেখে তারা সরেজমিনে সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন।
সূর্যমুখী চাষি রুবেল হোসেন বলেন, শখের বসেই তিনি সূর্যমুখীর চাষ শুরু করেন। শাহজাদপুর কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ পাওয়ায় উৎসাহ বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও ভালো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে সূর্যমুখী চাষের জমির পরিমাণ আরও বাড়াবেন।
শাহজাদপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সূর্যমুখী চাষ নতুন হলেও ইতোমধ্যে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সরকারি প্রণোদনার আওতায় ২০ জন কৃষককে ১ কেজি করে সূর্যমুখী বীজ ও ১ কেজি করে কীটনাশক দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, সূর্যমুখী তেল স্বাস্থ্যসম্মত এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। কৃষকদের সফলতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রণোদনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।








