প্রতিটি ফুলে আশা, পেঁয়াজের বীজে কৃষকের বড় স্বপ্ন

পেঁয়াজের ক্ষেতে এখন ফুলের সমারোহ। ভোর হলেই জমিতে যান কৃষক আবু হাসান। প্রতিদিন সকালে পেঁয়াজের ফুলে আলতো করে হাত বুলিয়ে দেন। ঠিকমতো পরাগায়ন না হলে বীজ আসবে না। তাই বাড়তি যত্ন। স্থানীয়দের ভাষায়, এ যেন একেবারে ‘আদুরে ফসল’।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চক শাদী গ্রাম এলাকায় এবার প্রথমবারের মতো তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজের বীজকন্দ থেকে বীজ উৎপাদনের পরীক্ষামূলক চাষ করেছেন তিনি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে জাত সম্পর্কে জেনে অগ্রহায়ণ মাসে রোপণ করেন। চৈত্র মাসে বীজ উত্তোলনের আশা করছেন।
২২ শতক জমিতে করা এই চাষে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়েছে শুরু থেকেই। আড়াই হাত করে বেড তৈরি করে প্রতিটি বেডে আটটি করে চারা লাগাতে হয়। চার মাস মেয়াদি এ ফসলে চার থেকে ছয়বার সেচ প্রয়োজন। প্রতি শতকে আড়াই কেজি টিএসপি, ১ কেজি পটাশ, ১ কেজি ট্যাব সার, আধা কেজি ইউরিয়া এবং প্রায় ৮০ কেজি গোবরসার প্রয়োগ করতে হয়। সংবেদনশীল হওয়ায় পরিচর্যাও করতে হয় নিবিড়ভাবে।
বিজ্ঞাপন

এ পর্যন্ত তার প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বীজ উত্তোলন পর্যন্ত আরও প্রায় ৫ হাজার টাকা লাগতে পারে। নিজের শ্রম ধরলে বিঘাপ্রতি ব্যয় প্রায় এক লাখ টাকা বলে জানান তিনি।
ফলন নিয়ে আশাবাদী আবু হাসান বলেন, তিনি জেনেছেন শতকে পাঁচ থেকে আট কেজি পর্যন্ত বীজ পাওয়া যেতে পারে। সে হিসেবে ২২ শতক জমিতে প্রায় ৮০ কেজির মতো ফলন হতে পারে। সাধারণত এই বীজ প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। চাহিদা বাড়লে দাম ৭ থেকে ৮ হাজার টাকাও হতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় বা দ্বিগুণ লাভের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা বর্ণা খাতুন বলেন, এটি তাহেরপুরী পেঁয়াজের জাত। বীজের সংকট এড়াতে বীজ উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছে। প্রণোদনার অংশ হিসেবে কৃষকদের বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। ফুলের অবস্থা ভালো, ফলনও ভালো হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার জানান, উপজেলায় এই প্রথম পেঁয়াজের বীজকন্দ থেকে বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। কয়েকটি ইউনিয়নের ২০ জন কৃষকের মাঝে ১৬০ কেজি করে বীজকন্দ, সার, বালাইনাশক এবং বীজ সংরক্ষণ পাত্র দেওয়া হয়েছে। মাঠ পরিদর্শন শেষে তারা আশাবাদী। শতকপ্রতি ২ থেকে ৫ কেজি বীজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন।








