হাওরের বুকজুড়ে শিলার ক্ষত, এক রাতেই ভেসে গেল কৃষকের স্বপ্ন

বজ্রসহ ভয়াবহ শিলাবৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জ জেলা-এ বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে হওয়া এ দুর্যোগে জেলার প্রায় চার হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বড় অংশই হাওরাঞ্চলে।
বিজ্ঞাপন
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাওর অধ্যুষিত মিঠামইন উপজেলা, ইটনা উপজেলা, অষ্টগ্রাম উপজেলা ও নিকলী উপজেলা। এছাড়া পাকুন্দিয়া উপজেলা, হোসেনপুর উপজেলা, কটিয়াদী উপজেলা ও ভৈরব উপজেলা-এর বিভিন্ন এলাকাতেও শিলাবৃষ্টির প্রভাব পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, অনেক এলাকায় শিলাবৃষ্টির তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে জমি ও সড়ক সাদা হয়ে যায়। বড় আকারের শিলার আঘাতে পাকা ও আধাপাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মিঠামইনে প্রায় ২,৫০০ হেক্টর জমির বোরো ধান। এছাড়া ইটনায় ৯৮৬ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ১৪০ হেক্টর, নিকলীতে ১০০ হেক্টর, পাকুন্দিয়ায় ১২০ হেক্টর, হোসেনপুরে ১০ হেক্টর, কুলিয়ারচরে ৬ হেক্টর এবং ভৈরবে ২ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো ধান, বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে নিকলী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ওই রাতে সেখানে ১৯ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে তীব্র শিলাবৃষ্টিও হয়েছে।
এক রাতের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে পড়েছে, যা তাদের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।








