ময়মনসিংহে শিক্ষক কাজিম উদ্দিনের সূর্যমুখী বাগান হলুদে ছেয়ে গেছে

ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পাহাড় অনন্তপুর গ্রামে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন একটি সূর্যমুখী ফুলের বাগান। গ্রামের বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক কাজিম উদ্দিন নিজের বাড়ির আঙ্গিনায় প্রায় ২২ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখী চাষ শুরু করেন।
বিজ্ঞাপন
বাগানজুড়ে ফুটে থাকা হলুদ রঙের সূর্যমুখী ফুলগুলো যেন আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসছে। বিকেলের মোলায়েম সূর্যের আলোতে ফুলগুলোর সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। স্থানীয় মানুষসহ আশপাশের এলাকার অনেকেই এই বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করছেন।
কাজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, “উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় সূর্যমুখী চাষ শুরু করেছি। কম খরচে এবং স্বল্প সময়ে চাষ করা সম্ভব। কৃষি অফিসের সহায়তা নিয়ে অন্য উদ্যোক্তারাও চাইলে এই চাষ করতে পারেন।”
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, শুধু সূর্যমুখী নয়, তাঁর বাড়িতে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ মিশ্র ফলের বাগান। সেখানে প্রায় ৩০ জাতের বিদেশি আঙ্গুর, ৩৫টিরও বেশি বিদেশি আম, বারোমাসি সবুজ ভিয়েতনামি মাল্টা, অস্ট্রেলিয়ান হলুদ মাল্টা সহ নানা ধরনের সুস্বাদু ও সুমিষ্ট ফলের গাছ রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ জানান, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। কৃষকদের উপকরণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে এই চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
বিজ্ঞাপন
কৃষি বিভাগ সূর্যমুখী চাষে গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে দেশের ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমানো যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সূর্যমুখী চাষের প্রসার ঘটলে ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফুলবাড়ীয়ার পাহাড় অনন্তপুরের এই সূর্যমুখী বাগান এখন শুধু একটি ক্ষেত নয়, বরং কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা এবং সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।








