প্রথমবার ‘সুপার কিং’ পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো ‘সুপার কিং’ জাতের পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এক কৃষকের পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগ সফল হলে এলাকায় পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলার দরিয়াদৌলত গ্রামর কৃষক মোবাইজ সরকার এক বিঘা জমিতে নিজ উদ্যোগে ‘সুপার কিং’ পেঁয়াজের চারা রোপণ করেছেন। মূলত বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে শুরু হওয়া এই চাষ বর্তমানে ফুল এসেছে এবং গাছগুলো পরাগায়নের গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। প্রতিদিন ৫–৬ জন শ্রমিকের সাহায্যে গাছের পরাগায়নের পরিচর্যা করা হচ্ছে, যাতে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
মোবাইজ সরকার জানিয়েছেন, “পরীক্ষামূলকভাবে এবার এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করছি। সবকিছু ঠিক থাকলে এই জমি থেকে প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ কেজি বীজ পাওয়া যেতে পারে। বাজারে পেঁয়াজের বীজের দাম ভালো, তাই সফল হলে এটি লাভজনক চাষ হতে পারে।”
বিজ্ঞাপন
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “উপজেলায় এই প্রথম কোনো কৃষক পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত জমি পরিদর্শন ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বীজ উৎপাদনের পর সংরক্ষণ ও বাজারজাত করতেও সহায়তা করা হবে।”
এ বিষয়ে সাবিনা ইয়াসমিন, প্রকল্প পরিচালক, বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল রিকভারি, ইমারজেন্সি প্রিপেয়ারনেস অ্যান্ড রেসপন্স (বি-স্ট্রং) প্রকল্প বলেন, “প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের ৪০টি উপজেলায় পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘সিড ভিলেজ’ ভিত্তিক প্রদর্শনী স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে বীজ উৎপাদনের বিষয়ে উৎসাহিত করা হচ্ছে।”
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্মত পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে দেশের চাহিদা পূরণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
স্থানীয়দের ধারণা, মোবাইজ সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে বাঞ্ছারামপুরে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এতে ভবিষ্যতে আরও অনেক কৃষক এই চাষে আগ্রহী হবেন।








