Logo

যেখানে অযত্ন, সেখানে সৌন্দর্য, ঢোলকলমি ফুলের গোপন গৌরব

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৬:১৭
যেখানে অযত্ন, সেখানে সৌন্দর্য, ঢোলকলমি ফুলের গোপন গৌরব
ছবি প্রতিনিধি।

অযত্ন আর অবহেলার মাঝেই কখনো কখনো জন্ম নেয় অপার সৌন্দর্য। ঠিক তেমনই এক নীরব সৌন্দর্যের নাম ঢোলকলমি। স্থানীয়ভাবে গাছ কলমি, বেড়ালতা, বেড়াগাছ বা ঢোল কলমি নামেও পরিচিত এ গাছটি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের রাস্তার ধারে, বাড়ির পাশে, জলাশয়ের পাড়ে কিংবা খাল-বিলের ধারে স্বাভাবিকভাবেই জন্মাতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

ঢোলকলমি মূলত গুল্ম প্রজাতির উদ্ভিদ। সবুজ পাতা আর নরম কাণ্ডবিশিষ্ট এ গাছ সাধারণত ছয় থেকে দশ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে, যদিও পরিবেশভেদে এর আকার আরও বড় হতে পারে। এর কাণ্ড দিয়ে কাগজ তৈরির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন উদ্ভিদবিদরা, যা এ গাছকে কেবল সৌন্দর্য নয়—ব্যবহারিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

তবে ঢোলকলমির আসল আকর্ষণ লুকিয়ে আছে তার ফুলে। হালকা বেগুনি রঙের পাপড়ি আর মাঝখানে সাদা আভা—এমন মনোমুগ্ধকর রূপ সহজেই যে কোনো বয়সী মানুষের নজর কাড়ে। ভোরের শিশিরভেজা সকালে কিংবা বিকেলের কোমল আলোয় ফুটে থাকা ঢোলকলমি ফুল যেন প্রকৃতির নিজস্ব তুলিতে আঁকা এক নীরব শিল্পকর্ম।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অনেকেই জানান, আগে এই গাছকে আগাছা ভেবে কেটে ফেলা হতো। কিন্তু এখন অনেকে এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বাড়ির পাশে কিংবা বাগানের এক কোণে রেখে দেন। বিশেষ করে বর্ষা ও শীত মৌসুমে এ গাছের ফুলে চারপাশে এক ধরনের গ্রামবাংলার আবহ তৈরি হয়।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, রাস্তার ধারে সারি সারি ঢোলকলমি ফুল ফুটে আছে—কোনো যত্ন ছাড়াই, কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই। তবুও তারা প্রকৃতিকে সাজিয়ে রাখছে নিজস্ব রঙে। যেন নীরবে জানিয়ে দিচ্ছে—সৌন্দর্য কখনো বিলাসিতা নয়, বরং প্রকৃতির সহজাত দান।

বিজ্ঞাপন

প্রকৃতিপ্রেমীরা মনে করেন, এ ধরনের দেশীয় উদ্ভিদ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। অযত্নে জন্ম নেওয়া এই ঢোলকলমি গাছই হতে পারে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ঢোলকলমির মতো সাধারণ গাছের অসাধারণ ফুল তাই ব্রাহ্মণপাড়ার প্রকৃতিতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা—নীরব, স্বাভাবিক, অথচ গভীরভাবে মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD