Logo

হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হয়নি, ফসল ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় কৃষক

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, সুনামগঞ্জ
৫ মার্চ, ২০২৬, ১৪:৪৬
হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হয়নি, ফসল ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় কৃষক
ছবি: প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলা-এ হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় বোরো ফসল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নীতিমালা অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন হাওরে এখনো একাধিক বাঁধের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অনেক বাঁধে এখনো শুধু মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও মাটির কাজ চলমান থাকলেও অধিকাংশ বাঁধে দুরমুজ দেওয়া বা দুর্বা ঘাস লাগানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। কৃষকদের দাবি, নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও অধিকাংশ প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি গড়ে ৭০ শতাংশের বেশি নয়। ফলে আগাম বৃষ্টিপাত হলে হাওরের বোরো ফসল বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে মধ্যনগর উপজেলায় প্রায় ৫৮ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত ও নির্মাণের জন্য ৪১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে প্রায় ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বেশির ভাগ প্রকল্পেই এখনো মাটির কাজ সম্পন্ন হয়নি। অনেক স্থানে বাঁধে অপরিকল্পিতভাবে মাটি ফেলা হয়েছে। কোথাও কোথাও বাঁধের উচ্চতা ও প্রস্থ নকশা অনুযায়ী হয়নি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। কয়েকটি প্রকল্পে কাজ প্রায় বন্ধ থাকার চিত্রও দেখা গেছে।

কৃষকেরা বলছেন, পাউবোর কাগজে অগ্রগতি প্রতিবেদন ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। সময়মতো কাজ শেষ না হলে আগাম বন্যা বা ভারী বৃষ্টিতে হাওরের পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন মধ্যনগর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন হিল্লোল বলেন, যেখানে প্রকল্পের প্রয়োজন নেই সেখানেও প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আবার অনেক প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজের মান ও অগ্রগতি—দুই ক্ষেত্রেই অবহেলা ও গাফিলতির চিত্র স্পষ্ট।

বিজ্ঞাপন

মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম মজনু বলেন, সরকারি টাকার কিস্তি সময়মতো না পাওয়ায় পিআইসিরা ঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। তিনটি কিস্তির টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটি কিস্তি দেওয়া হয়েছে। সময়মতো টাকা পেলে কাজও সময়মতো শেষ হতো। আগাম বন্যায় ফসলের ক্ষতি হলে এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী নূরে আলম বলেন, সংসদ নির্বাচনের কারণে এক সপ্তাহ কাজ বন্ধ ছিল। পিআইসিদের একটি কিস্তি টাকা দেওয়া হয়েছে, তবে সময়মতো টাকা ছাড় না পাওয়ায় ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। টাকা ছাড় হলে এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, হাওরে পানি দেরিতে নামায় সার্ভে করতে দেরি হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের কারণে এক সপ্তাহ কাজ বন্ধ ছিল। সময়মতো পিআইসিদের টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলেই কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে আশা করছি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD