ঠাকুরগাঁওয়ে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ঠাকুরগাঁও জেলা-এর জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। আম ও লিচুর মুকুল ঝরে যাওয়ার পাশাপাশি গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা সহ হরিপুর উপজেলা, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা এবং রাণীসংকৈল উপজেলা-এর বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করে দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রথমে দমকা হাওয়া শুরু হয়ে পরে ঝড়ের তীব্রতা বাড়ে এবং বড় আকারের শিলাবৃষ্টি হয়। প্রতিটি শিলার ওজন প্রায় ১০০ থেকে ২০০ গ্রামের মতো হওয়ায় ফসলের ক্ষতি আগের বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির গম, ১ হাজার ৭১৭ হেক্টর জমির ভুট্টা, ২৫৭ হেক্টর জমির আলু, ৩ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ এবং ৬৬ হেক্টর জমির পেঁয়াজ বীজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কালিতলা এলাকা-এর ভুট্টা চাষি পরিতোষ জানান, তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যার একটি বড় অংশ ঋণ নেওয়া। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসল নষ্ট হওয়ায় ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
অন্য কৃষক গোপেন চন্দ্র বলেন, চার বিঘা জমির ভুট্টা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি গম ও আম বাগানের মুকুলও ঝরে পড়েছে। তিনি বলেন, “এ ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেবো বুঝতে পারছি না।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এনে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার থেকে অতিরিক্ত সহায়তা পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সহজ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।








