Logo

পাকার আগেই ফেটে যাচ্ছে লিচু, চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহী
২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:৪৩
পাকার আগেই ফেটে যাচ্ছে লিচু, চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
ছবি: সংগৃহীত

তীব্র গরমের পর হঠাৎ বৃষ্টিপাতের প্রভাবে রাজশাহী অঞ্চলের লিচু বাগানগুলোতে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক সমস্যা। পাকার আগেই গাছে থাকা লিচু ফেটে যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে ঝরেও পড়ছে। এতে করে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা, বাড়ছে তাদের উদ্বেগ।

বিজ্ঞাপন

এপ্রিলের শুরু থেকেই রাজশাহীতে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২২ এপ্রিল) তাপমাত্রা বেড়ে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। পুরো এপ্রিলজুড়েই এই তাপপ্রবাহের প্রভাব ছিল, আর এর মাঝেই হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক ওঠানামার সরাসরি প্রভাব পড়েছে লিচু বাগানগুলোতে।

নগরীর চন্ডিপুর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস প্রাঙ্গণের লিচু গাছগুলোতে দেখা গেছে, ফল ধরার পর পাকার সময় ঘনিয়ে এলেও প্রতিটি থোকায় একাধিক লিচু ফেটে গেছে। অনেক ফলের গায়ে কালচে বা খয়েরি দাগ পড়েছে। পাশাপাশি কিছু ছোট আকারের লিচু আগেভাগেই ঝরে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে নগরীর রায়পাড়া এলাকার একটি বাগানেও।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাগান মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, গরমের সময় লিচু ঝরে পড়া বা ফেটে যাওয়া একেবারে নতুন নয়, তবে এবারের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক। তিনি বলেন, এবার অনেক বেশি লিচু নষ্ট হচ্ছে, ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, তীব্র গরমের পর হঠাৎ বৃষ্টিপাতই এই সমস্যার মূল কারণ। দীর্ঘ সময় তাপপ্রবাহে থাকার পর বৃষ্টির পানিতে লিচুর ভেতরের অংশ দ্রুত ফুলে ওঠে, কিন্তু খোসা সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে ফেটে যায়। মাঠ পর্যায় থেকেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক শহীদুল ইসলাম জানান, এপ্রিলের শুরু থেকেই তাপমাত্রা ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবার বেলা ৩টায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা এ মৌসুমের সর্বোচ্চ। ওইদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, আর ভোরে সর্বনিম্ন ছিল ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি। এর আগে ৩ এপ্রিলও একই ধরনের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু তাপপ্রবাহ এবং ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চলতি মাসজুড়ে রাজশাহীতে এই দুই ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত ছিল এবং পরে তা তীব্র আকার ধারণ করে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় বৃষ্টিপাতও হয়েছে। সর্বশেষ গত রবিবার ৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ৮, ৯ ও ১০ এপ্রিলও অল্প পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৫৩০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করে উৎপাদন হয়েছিল ৩ হাজার ৭৬৮ মেট্রিক টন। চলতি বছর চাষের জমির পরিমাণ কিছুটা কমে ৫২৮ হেক্টরে দাঁড়ালেও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আরও বেশি। তবে বর্তমান আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপপ্রবাহ ও অনিয়মিত বৃষ্টির এমন প্রভাব অব্যাহত থাকলে রাজশাহীর সুস্বাদু লিচুর উৎপাদনে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। তাই চাষিরা এখন আবহাওয়ার অনুকূলে পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এ অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিচ্ছেন, খরার সময় নিয়মিত সেচ নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে গাছে পানি স্প্রে করতে হবে। পাশাপাশি হরমোন, বোরণ বা জিংক প্রয়োগ করলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমানো সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD