বাগেরহাটে এক বাগানেই ৫০ জাতের আম

দক্ষিণাঞ্চলের নোনা পানির এলাকা, যেখানে অনেক ফসল চাষই চ্যালেঞ্জ, সেই বাগেরহাটে বিদেশি আম চাষ করে সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত গড়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আবু বক্কর শেখ।
বিজ্ঞাপন
জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলায় তার গড়ে তোলা আমবাগানে রয়েছে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫০ প্রজাতির আম, যা থেকে বছরে আয় করছেন লক্ষাধিক টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়নের আলতি ব্রুজবারিয়া গ্রামের এই উদ্যোক্তা প্রায় ১০ বছর আগে বিদেশি আম চাষ শুরু করেন। বর্তমানে প্রায় ৪ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন একটি সমৃদ্ধ বাগান, যেখানে প্রায় ৫০০টি আমগাছ রয়েছে।
বাগানটিতে থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় জাতের আম চাষ হচ্ছে। বিদেশি আমের মধ্যে রয়েছে চিয়াংমাই, কিং অব চাকাপাত, মিয়াজাকি, ব্যানানা ম্যাংগো, ব্ল্যাক স্টোন, রেড পালমার ও ব্রুনাই কিং। পাশাপাশি দেশি আমের মধ্যে গোপালভোগ ও হিমসাগরের মতো সুপরিচিত জাতও রয়েছে। এছাড়া বারি-১১ জাতের আম বছরজুড়ে ফল দেয়, যা বাগানের বিশেষ আকর্ষণ।
বিজ্ঞাপন
বাগানে গেলে চোখে পড়ে আমে ভরা গাছের সারি, অনেক গাছই ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। স্বাদ ও গুণে এসব আম ক্রেতাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
উদ্যোক্তা আবু বক্কর শেখ জানান, প্রতিটি গাছ রোপণে তার খরচ হয়েছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। এ বছর প্রতিটি গাছ থেকে ১৫ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত আম উৎপাদন হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার বাগানের আম সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি আমের তুলনায় বিদেশি আমে লাভ বেশি, কারণ মৌসুম শেষে এসব আম পাকে এবং তখন বাজারে চাহিদা বেশি থাকে।”
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, তার নার্সারিতে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে আমের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার চারা প্রস্তুত হয়েছে এবং আরও ৪ থেকে ৫ হাজার চারা উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। অনেকেই তার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে নতুন বাগান গড়ে তুলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
বাগান পরিচর্যায় নিয়োজিত মো. বাবুল শেখ বলেন, এ বছর বাগানে ভালো ফলন হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বারি-১১ আম পাকা শুরু করেছে। অনেক ক্রেতা সরাসরি বাগান থেকেই আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, বাগানটি দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরাও। কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা কবির শেখ জানান, “এই বাগান দেখে আমিও বিদেশি আম চাষে আগ্রহী হয়েছি। ইতোমধ্যে ৩০টি চারা সংগ্রহ করেছি।”
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, “চিয়াংমাই ও চাকাপাত থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় আমের জাত। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে পাকার কারণে এসব আম বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়, যা চাষিদের জন্য লাভজনক।” তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তার মাধ্যমে কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং নতুন উদ্যোক্তাদের এ খাতে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছে।
বিদেশি আম চাষের মাধ্যমে আবু বক্কর শেখের এই সাফল্য এখন স্থানীয় কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।








