Logo

হাওরে বন্যার আশঙ্কায় ধান কাটার ধুম, চিন্তিত কৃষকরা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩:০২
হাওরে বন্যার আশঙ্কায় ধান কাটার ধুম, চিন্তিত কৃষকরা
ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার আশঙ্কায় দ্রুত ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। এ বছর ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের বাজারমূল্য কম থাকায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন চাষিরা।

বিজ্ঞাপন

জেলার প্রায় দেড় হাজার বর্গকিলোমিটার হাওর এলাকায় এখন পুরোদমে চলছে ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলার কাজ। বৈশাখের তীব্র রোদ উপেক্ষা করে দিনরাত পরিশ্রম করছেন কৃষক পরিবারগুলো। তবে নতুন ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশা বাড়ছে তাদের মধ্যে।

কৃষকেরা জানান, প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে ১১০০ টাকার বেশি, অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। অনেক ক্ষেত্রে ধান কেনার জন্য পর্যাপ্ত ক্রেতাও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে লোকসানের শঙ্কা বাড়ছে দিন দিন।

বিজ্ঞাপন

মুনসুর আলীসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, “ধান কাটতে ও মাড়াই করতে খরচ বেড়েছে অনেক। কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যবহার করতে হচ্ছে, কিন্তু ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মেশিন ভাড়া অনেক বেশি। আবার তেলের সংকট থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী মেশিনও পাওয়া যাচ্ছে না।”

এদিকে, কৃষি বিভাগ জানিয়েছে—আগাম বন্যার পূর্বাভাস থাকায় ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১৫ মে’র মধ্যে হাওরের ধান কাটা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান বলেন, “আগাম বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কৃষকদের ৮০ শতাংশ পাকা হলেই ধান কেটে ফেলতে বলা হচ্ছে। আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। কৃষকেরাও সচেতনভাবে দ্রুত ফসল ঘরে তুলছেন।”

তিনি আরও জানান, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ার শঙ্কা কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD