Logo

ধর্মপাশা-মধ্যনগরের হাওরে বিপর্যয়, পানিতে নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩:১৫
ধর্মপাশা-মধ্যনগরের হাওরে বিপর্যয়, পানিতে নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান
ছবি: প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পাকা ও আধাপাকা ধান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা।

বিজ্ঞাপন

অনেক ক্ষেতের ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে, আবার কোথাও ডুবুডুবু অবস্থায় রয়েছে— যে কোনো সময় পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত চার দিনের ধারাবাহিক বৃষ্টিপাতে শুধু ক্ষেতের ধানই নয়, কাটা ধানও রক্ষা পাচ্ছে না। খলায় শুকানোর জন্য রাখা ধান ভিজে গিয়ে অনেক জায়গায় চারা গজাতে শুরু করেছে। ফলে যারা আগাম ধান কেটে কিছুটা স্বস্তিতে ছিলেন, তারাও এখন নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই উপজেলার বিভিন্ন হাওরের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অনেক স্থানে ছোট বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এতে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে মোট আবাদকৃত জমির পরিমাণ ৩১ হাজার ৯১০ হেক্টর। এর মধ্যে হাওর এলাকায় আবাদ হয়েছে ২৫ হাজার ১৮০ হেক্টর এবং অন্যান্য এলাকায় ৬ হাজার ৭৩০ হেক্টর। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে প্রায় ১ হাজার ৬৮৩ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ২ হাজার ৭০৩ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ধর্মপাশার মেউহারী গ্রামের কৃষক মোফাজ্জল হোসেন জানান, শ্রমিক সংকট ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তার ওপর জমিতে পানি জমে থাকায় যন্ত্র দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে বাধ্য হয়ে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে ধান কাটা, শুকানো ও ঘরে তোলা— সবকিছুই কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

বিজ্ঞাপন

মধ্যনগরের কাহালা বিশারা গ্রামের কৃষক রামকৃষ্ণ পাল বলেন, দিনরাত চেষ্টা করেও ধান ঘরে তোলা যাচ্ছে না। অনেকেই নৌকা ব্যবহার করে বা কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। কিন্তু আবহাওয়ার প্রতিকূলতায় সেই চেষ্টা বারবার ব্যাহত হচ্ছে। কাটা ধান শুকাতে না পারায় চারা গজিয়ে আরও ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশয়াদ বিন খলিল রাহাত জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি কৃষকদের দুর্ভোগ কাছ থেকে দেখেছেন। অনেকেই কাটা ধান নিয়ে রোদ ওঠার অপেক্ষায় আছেন, আবার অনেকের ধানে ইতোমধ্যে চারা গজিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা করা হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD